ইংল্যান্ডে অপারেশনের জন্য ২ লাখ রোগী এক বছর যাবৎ অপেক্ষা করছেন

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, ইংল্যান্ডে প্রায় ২ লাখ রোগী এখন এনএইচএস-এর রুটিন অপারেশনের জন্য বছর খানেক যাবৎ অপেক্ষা করছেন। নভেম্বরের শেষ নাগাদ মোট ১৯২১৬৯ জন রোগী চিকিৎসার জন্য ৫২ সপ্তাহেরও বেশী অপেক্ষা করেন। সব মিলিয়ে ৪৫ লাখেরও বেশী রোগী এখন এনএইচএস-এ চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সংখ্যা রেকর্ড শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এক বছরেরও বেশী সময় যাবৎ অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ১১৬৩। করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় হাসপাতালগুলো কর্তৃক ব্যাপক হারে রোগী বাতিলের ফলে রোগীর সংখ্যা ফুলে ফেঁপে ওঠে। জটিল করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হাসপাতালগুলোকে অস্থায়ী ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট হিসেবে অপারেটিং থিয়েটারসমূহকে ব্যবহার এবং স্টাফদের অন্যত্র নিয়োজিত করতে হয়।
নভেম্বর থেকে ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে ওঠলে অনেক হাসপাতালে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ৬৮ শতাংশ রোগী চিকিৎসার জন্য ১৮ সপ্তাহ অপেক্ষা করেন। এর মানে হচ্ছে, এনএইচএস রোগীর ৯২ শতাংশের ক্ষেত্রে এবং ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা হারিয়েছে। ইংল্যান্ডের হাসপাতালসমূহে রুটিন চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা নভেম্বরে ২৭ শতাংশ হ্রাস পায় ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায়। করোনা আক্রান্ত রোগীতে হাসপাতালের শয্যাগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ার দরুণ বিলম্বিত হয় জীবন রক্ষার্থে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপারশেন।
নভেম্বর মাসে চিকিৎসার জন্য প্রায় ২২২৮১০ জন রোগী ভর্তি হন। এক বছর আগে এসংখ্যা ছিলো ৩০৩১৯৩ জন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের রেকর্ড অনুযায়ী, বছরে রোগীর সংখ্যা হ্রাসের হার ২৭ শতাংশ। তবে গত আগষ্টে এটা ছিলো ৪৩ শতাংশ। আলাদাভাবে এনএইচএস-এর ডাটা অনুসারে ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে প্রতি ঘন্টায় ৫ হাজারেরও বেশী রোগীকে অপেক্ষা করতে হয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে এএন্ডই স্টাফদের কাছে হস্তান্তরের জন্য। ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত এক সপ্তাহের চিত্র এটি। সকল এনএইচএস হসপিটাল ট্রাস্টে ৫৫১৩ জন রোগীকে ৬০ মিনিটেরও বেশী সময় অপেক্ষা করতে হয়। চলতি শীতকালে এটা সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক রেকর্ড।
ইংল্যান্ডের রয়াল কলেজ অব সার্জনস-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নেইল মর্টেনসেন বলেন, আজকের পরিসংখ্যানে অপারেশনগুলোর জন্য অপেক্ষার সময়ের ওপর কভিড-১৯ এর বিপর্যয়কর প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। গত নভেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করেন। এনএইচএস ইংল্যান্ড মেডিকেল-এর পরিচালক অধ্যাপক স্টিফেন পাউয়িস বলেন, ২০২০ সাল কভিডের বছর হওয়া সত্বেও প্রায় ২ কোটি লোক ইংল্যান্ডের এএন্ডই-তে জরুরী সেবা গ্রহণ করেন। স্টাফরা অপেক্ষমানদের তালিকা হ্রাসে কঠোর পরিশ্রম করছেন, যার ফলে অপেক্ষার গড় সময় আগের বছরের চেয়ে এখন হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Back to top button
Close