বিশ্বের বৃহত্তম ভারতীয় ভিসা সেন্টার কেন ঢাকায় হলো?

Visaবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আজ ভারতীয় একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যা কিনা বিশ্বের সবচাইতে বড় ভারতীয় ভিসা সেন্টার।

ঢাকার একটি বিলাসবহুল শপিং-মল যমুনা ফিউচার পার্কে সাড়ে আঠারো হাজার স্কয়ার ফিটের মতো বিশাল জায়গা জুড়ে তৈরি এই ভিসা সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে।

যা চালুর সাথে সাথে দুই ধাপে ঢাকার অন্যান্য ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

নতুন ভিসা সেন্টারটি দেখতে রীতিমতো পাঁচ তারা হোটেলের লবির মতো।

এই কেন্দ্রে রয়েছে ৪৮ টি কাউন্টার, চা-কফির জন্য ভেন্ডিং মেশিন, হালকা খাবারদাবার বিক্রির স্টল, এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার।

আগে যেখানে রাস্তাতেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে সেখানে নতুন এই কেন্দ্রে রয়েছে এয়ার-কন্ডিশনিং সম্বলিত আরামদায়ক ওয়েটিং রুম।

কিন্তু বিশ্বের সবচাইতে বড় ভারতীয় ভিসা সেন্টারটি কেন বাংলাদেশে হলো?

আসলে বাংলাদেশীদের এত আদর যত্নের কারণই হল ভারতে যত বিদেশী পর্যটক যাচ্ছেন তার মধ্যে বাংলাদেশীরা শীর্ষ।

যেমনটা বলছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী।

তিনি বলছেন, “এটা দরকার ছিল কারণ বাংলাদেশে থেকে যারা আমাদের এখানে আসতে চান তাদের সংখ্যা প্রচুর বেড়ে গেছে।”

“আমাদের আগে যে ভিসা সেন্টারগুলো ছিল তাতে আর কুলোচ্ছিল না। সেজন্য আমাদের নতুন করে এই ভিসা সেন্টার খুলতে হয়েছে। তাতে ভিসা পেতে আরো সুবিধা হবে। এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আমাদের ভারতে আসেন বাংলাদেশিরা”।

গত বছর ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতে সবচাইতে বেশি বিদেশি পর্যটকের যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে প্রথম অবস্থানে চলে এসেছে। ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশে ১৫ লাখের মতো ভারতীয় ভিসা ইস্যু হয়েছে।

এর একটি বড় অংশই মেডিকেল ভিসা। মেডিকেল ট্যুরিজম থেকে ভারতের যে আয় হয় তারও একটি বড় অংশ আসে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চিকিৎসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে।

তবে ঢাকার একটি ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট সাগর আহমেদ বলছিলেন সবচাইতে বেশি ভিসা ইস্যু হচ্ছে পর্যটনের জন্য।

তিনি বলছেন, “অনেকে ডাক্তার দেখাতে গেলেও তারাও ঐ টুরিস্ট ভিসাই নেয়। কারণ মেডিকেল ভিসায় অনেক কাগজপত্র চায়। ৭০ শতাংশই টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করে। এর পরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেডিকেল ভিসা। বিজনেস ভিসা সবচাইতে কম কারণ এটার প্রেসেসিং অনেক জটিল”

মাত্র কিছুদিন আগেও ভারতের ভিসা পেতে বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হতো বাংলাদেশিদের। সেটি সহজ করার জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। তার আওতায় এখন পাঁচ বছর পর্যন্ত ভিসা দেয়া হচ্ছে। দফায় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে নিয়ম।

আবেদন জমা দেয়া প্রক্রিয়া সহজ করা, এমনকি বিশেষ উৎসব মৌসুমে বাংলাদেশীদের আকর্ষণ করতে পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা ও অফারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যেমন এইসব ব্যবস্থার মধ্যে আছে সীমান্ত চেকপোস্টে উষ্ণ ব্যবহার, চিকিৎসা সংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগ জমা নেওয়া, হালাল খাবারের দোকান সম্পর্কে তথ্য দেয়া ইত্যাদি।

এমনকি পশ্চিমবঙ্গ নেমেছে অন্য প্রদেশের সাথে প্রতিযোগিতায়। আর এর কারণই হল বাংলাদেশিরা ভারতে গিয়ে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেন। বাংলাদেশেরা ভারতে যাচ্ছেন মূলত ঘুরতে, কেনাকাটায় ও ডাক্তার দেখাতে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর হিসেবে ২০১৭ সালে টুরিস্ট ভিসায় ভারতে যাওয়ার জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছেন বাংলাদেশিরা যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। -বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close