এফোর্ডেবল হোমস কোটা
লন্ডন মেয়রের আংশিক ছাড়ে টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র-এর প্রতিক্রিয়া
❛❛এটি আমাদের আইনি চ্যালেঞ্জের ফল❜❜
সাশ্রয়ী আবাসন বা এফোর্ডেবল হোমসের কোটা ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশাম কাউন্সিল আইনি লড়াই শুরু করেছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। সেই চাপের মুখেই (১৬ জুলাই) কিছুটা পিছু হটলেন লন্ডনের মেয়র। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কর্তন থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস সহ আরও কয়েকটি বারা।
তবে এই ছাড়কে “অর্ধেক জয়” হিসেবেই দেখছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, “আজকের (১৬ জুলাই) ঘোষণা প্রমাণ করে আমাদের আইনি চ্যালেঞ্জের প্রভাব কতটা ছিল”, কিন্তু এটি “যথেষ্ট দূর পর্যন্ত যায়নি”। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ‘জরুরি ব্যবস্থা’ চালু রাখলে “আগামী দুই বছরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী বাড়ি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, যেগুলো একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।”
টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশাম – এই তিন কাউন্সিল যৌথভাবে গ্রেটার লন্ডন অথরিটির (জিএলএ) বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ এর আবেদন জানায়। এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন জানায় আরও চারটি কাউন্সিল – ল্যামবেথ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথ্যাম ফরেস্ট ও হ্যারিঙ্গে। মোট সাতটি কাউন্সিলের এই সম্মিলিত অবস্থানই শেষ পর্যন্ত সিটি হলকে নীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন মেয়র রহমান।
মেয়র লুৎফুররহমানের মতে, সিটি হল “আমাদের জুডিশিয়াল রিভিউ দাবিতে উপস্থাপিত যুক্তির মৌলিক ভিত্তি মেনে নিয়েছে”, কারণ এই প্রস্তাবটি “স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী উচ্চাভিলাষী সাশ্রয়ী আবাসনের লক্ষ্য নির্ধারণে কাউন্সিলগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব স্বীকার করছে এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বারাগুলো যে উচ্চমাত্রায় সাশ্রয়ী আবাসন সরবরাহ করছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছে।
লন্ডনের আবাসন সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সোশ্যাল হাউজিংয়ের অপেক্ষমাণ তালিকা গত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যাও রেকর্ড ছুঁয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিলে বাসিন্দাদের জন্য প্রকৃত অর্থে এফরডেবুল বাড়ি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “লন্ডনের মেয়রের এফরডেবুল আবাসনের কোটাকে ৩৫% থেকে ২০%-এ নামানোর সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আমাদের আইনি চ্যালেঞ্জ যে প্রভাব ফেলেছে, আজকের ঘোষণা তারই প্রমাণ। আমরা আইনি কার্যক্রম শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিটি হল এই ছাড় দিয়েছে, যা আমাদের জুডিশিয়াল রিভিউ দাবিতে উত্থাপিত যুক্তির মৌলিক ভিত্তি মেনে নেওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। এই চ্যালেঞ্জটি আমরা হ্যাকনি ও লুইশাম কাউন্সিলের সঙ্গে যৌথভাবে করেছি এবং লন্ডনের সাতটি কাউন্সিল এর পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “সিটি হল এখন স্বীকার করছে যে কাউন্সিলগুলোকে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী উচ্চাভিলাষী সাশ্রয়ী আবাসন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া উচিত, এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বারা ইতিমধ্যেই যে উচ্চ মাত্রায় সাশ্রয়ী আবাসন সরবরাহ করছে, তা স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। একটি একচেটিয়া ২০% কর্তন নির্ধারণ করলে এই সুবিধাগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেত।
“তবে এই প্রস্তাব যথেষ্ট নয়। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সিটি হল ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই বিধ্বংসী ‘জরুরি ব্যবস্থা’ চালিয়ে যেতে চায়। এর ফলে আগামী দুই বছরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী বাড়ি হারিয়ে যাবে, যেগুলো একবার হারালে আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না। একই সময়ে লক্ষ লক্ষ পরিবার আবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রায় এক মিলিয়ন লন্ডনবাসী অতিরিক্ত ভিড় বা বসবাস অনুপযুক্ত বাসস্থানে বাস করছে।”
মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা লন্ডনের মেয়র ও গ্রেটার লন্ডন অথরিটির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা এই মূলনীতির পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকব যে, বড় ধরনের পরিকল্পনা নীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে তা যথাযথ পর্যালোচনা, অর্থবহ পরামর্শ এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই আসতে হবে। যেখানে লন্ডনের প্রতি ২১টি শিশুর একজন গৃহহীন, অর্থাৎ প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অন্তত একজন গৃহহীন শিশু রয়েছে – সেখানে আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না, যখন আমাদের কমিউনিটির একান্ত প্রয়োজনীয় প্রকৃত সাশ্রয়ী বাড়ির বা এফরডেবুল হাউস-এর চেয়ে ডেভেলপারদের মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”


