‘একাধিক হামলা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য সরকার ফিলিস্তিনি দূতাবাসের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ’
লন্ডনে অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাস তাদের ভবনে ধারাবাহিক হামলার পর যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান যে তারা যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাসকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে বহুবার অনুরোধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের দূতাবাস ও কর্মীদের সুরক্ষার জন্য কোনো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পাইনি।”
তিনি যোগ করেন, “এই মুহূর্তে এসে আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যেনো যুক্তরাজ্য সরকার ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করে।”
দূতাবাসের মতে, ইসরায়েল গাজায় তার গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ভবনটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আরও বেশি গুরুতর এবং সহিংস হয়ে উঠেছে। তাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন প্রো-ইসরায়েল সমর্থকদের একটি দল দূতাবাসের সামনের অংশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়, ইসরায়েলি পতাকা ও ইউনিয়ন জ্যাক হাতে দাঁড়ায়, এবং ভবনের দেয়ালে “আই লাভ দ্য আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী)” লেখা স্টিকার লাগিয়ে ভাঙচুর করে।
মুখপাত্র আরও জানান যে, দূতাবাস পররাষ্ট্র দপ্তর এবং লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের পার্লামেন্টারি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক প্রোটেকশন ইউনিট—উভয়ের কাছেই বহুবার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, “গত দুই বছরে আমরা এ ধরনের বহু হামলার শিকার হয়েছি। জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে, আমাদের ভবনের ওপর রং ছোড়া হয়েছে, যখন আমাদের কর্মীরা ভেতরে ছিলেন।”
এটি এক ধরনের ধারাবাহিক ভয়ভীতির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা কূটনীতিকদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে তা কেবল মাঝে মাঝে পুলিশের টহল, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নয়।”
ভিয়েনা কনভেনশন:
ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস অনুযায়ী, হোস্ট রাষ্ট্রকে অবশ্যই কূটনৈতিক মিশনের ভবনকে অনধিকার প্রবেশ, ক্ষতি বা বিঘ্নতা থেকে রক্ষা করার জন্য সব ধরনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়। দূতাবাসের দাবি, অন্যান্য দেশের ঔতুলনায় যুক্তরাজ্য নিয়মিতভাবেই এই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে এমন এক সময় যখন ব্রিটেন গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুখপাত্র আরও বলেন, “অবশেষে, আমরা যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি এবং কর্তৃপক্ষকে এসব হামলা প্রয়োজনীয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।”
দূতাবাস আরও জানায়, “আমরা জানি এদের (প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠী) উদ্দেশ্য কী। তারা চায় আমরা যেন যুক্তরাজ্যে আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং ন্যায্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত হই।”
এই মন্তব্যগুলো এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন, বর্ধিত প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি নজরদারির কারণে উত্তেজনা চরমে। দূতাবাস জানায়, যথেষ্ট নিরাপত্তা না থাকায় কর্মীরা ঝুঁকির মুখে আছে এবং দূতাবাসের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন যে, সোমবারের ঘটনার ব্যাপারে তারা অবগত ছিলেন কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। পুলিশ মুখপাত্র বলেন, “আমরা কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “কূটনৈতিক ভবনগুলোর নিরাপত্তা মেটে’র পার্লামেন্টারি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক প্রোটেকশন কমান্ড তত্ত্বাবধান করে এবং এটা ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। -আরিব উল্লাহ মিডল ইস্ট আই–এর একজন সাংবাদিক। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের অভিবাসী শ্রমিক, সিরিয়া, সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সামাজিক আন্দোলন নিয়ে কাজ করেন। তার লেখা আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান এবং হাফিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে‘র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]



