স্বাধীনতা ক্রুজ মিসাইলে আসে না

চলতি সপ্তাহে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের সাইডলাইনে রেজা পাহলভি যখন কথা বলেন, তখন তিনি শুধু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সমালোচনাই করেননি বরং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আরও গভীর কিছু গ্রহণ করতে আহ্বান জানান। তিনি আহ্বান জানান ইরানের বিরুদ্ধে “সামরিক হস্তক্ষেপের”, যাকে তিনি মানবিক শর্টকাট বা সংক্ষিপ্ত পন্থা হিসেবে উপস্থাপন করেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একটি মার্কিন “আক্রমণ সরকারকে দুর্বল করতে পারে বা তার পতন ত্বরান্বিত করতে পারে”, এবং যোগ করেন, “হস্তক্ষেপ জীবন বাঁচানোর একটি উপায়।”
ইরান নিয়ে লিখতে গেলে এই মুহূর্তটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দুটি পরিচিত ফাঁদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়। প্রথম ফাঁদ হলো বিদেশি বোমা হামলার ফলে যে সহিংসতা সৃষ্টি হয়, তার দায় ইরানের উপর চাপানো। দ্বিতীয় ফাঁদ হলো যুদ্ধকে একটি নিরপেক্ষ হাতিয়ার হিসেবে দেখা, যা “ভালো মানুষ” “ভালো উদ্দেশ্যে” ব্যবহার করতে পারে। আমি একটি তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে যুক্তি দিচ্ছি: কোনো বিরোধী রাজনীতি কেবল রাষ্ট্রের বিরোধিতা করলেই মহৎ হয়ে যায় না, আর স্বাধীনতার ভাষা ব্যবহার করলেই তা গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে না। যখন কোনো বিরোধী নেতা নিজের দেশের ওপর বিদেশি হামলার আহ্বান জানায়, তখন তিনি একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করেন, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর দাবি করা সবার জন্য উদ্বেগজনক হওয়া উচিত।
পাহলভির সমর্থকেরা বলতে পারেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান “ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে” দাঁড়িয়ে আছে এবং একটি আঘাত “প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত” করবে। কিন্তু এতে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে: যদি পতন এত কাছেই হয়, তবে কেন এমন সামরিক আঘাতের আহ্বান জানানো হবে, যা নিশ্চিতভাবে সেই মানুষদের জীবন ও অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানবে, যাদের রক্ষা করার দাবি করা হচ্ছে? এই বিরোধিতা বোঝার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রয়োজন নেই। কেবল একটি মৌলিক রাজনৈতিক মানদণ্ডে যাচাই করলেই যথেষ্ট: আপনার প্রস্তাবিত উপায় কি সত্যিই আপনার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করে?
একজন আমেরিকান পাঠক হিসেবে, “জীবন বাঁচাতে” “হস্তক্ষেপ” শব্দযুগল শুনলে আমার দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। যুক্তরাষ্ট্র এক প্রজন্ম ধরে যুদ্ধকে এই ভাষাতেই বিক্রি করেছে: নির্ভুল, দ্রুত, মুক্তিদায়ক, ন্যূনতম ক্ষতিকর। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার প্রকল্প’ অনুযায়ী, ৯/১১–পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে সরাসরি সহিংসতায় প্রায় ৯,৪০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪,৩২,০০০–এর বেশি বেসামরিক নাগরিক। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে পরোক্ষ মৃত্যু ৩.৬–৩.৮ মিলিয়ন বলে ধারণা করা হয় — মোট মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৪.৫–৪.৭ মিলিয়ন। যুদ্ধকে জীবনরক্ষাকারী হাতিয়ার হিসেবে দেখাতে চাইলে আগে এই সংখ্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। আলোচনাটি বিমূর্ত মনে হলে ইরাক একটি বাস্তব শিক্ষা দেয়। ইরাক বডি কাউন্ট ২০০৩ সালের আগ্রাসনের পর সহিংসতায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ১,৮৭,৪৯৯–২,১১,০৪৬ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, যদিও তারা স্বীকার করে যে এই হিসাব অসম্পূর্ণ। এটি যুক্তিকে দুর্বল করে না, বরং শক্তিশালী করে। যুদ্ধ কখনোই নিয়ন্ত্রিত “সার্জিক্যাল” সীমার মধ্যে থাকে না। যুদ্ধ যেখানেই যায়, বিশ্বকে ভেঙে দেয়, এমনভাবে ভাঙ্গে যা পরিকল্পনাকারীরা অনুমান করতে পারে না এবং রাজনীতিকরা স্বীকার করতে চান না। আন্তর্জাতিক আইনও এ কারণেই বিদ্যমান। জাতিসংঘ সনদ কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছে, আত্মরক্ষার মতো সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া।
এটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য আইন সবসময় ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন ভান করা নয়, বরং বোঝানো যে পাহলভির আহ্বান একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। তিনি সামরিক শক্তিকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বৈধ উপায় হিসেবে স্বাভাবিক করে তুলতে চাইছেন। এমন নজির স্থাপিত হলে, যে কোনো সমাজই একই যুক্তির শিকার হতে পারে যখন কোনো শক্তিধর রাষ্ট্র তার রাজনীতি অপছন্দ করবে।
আরেকটি বড় মূল্য রয়েছে — যা যুদ্ধের মানচিত্রে দেখা যায় না: প্রচারণাগত লাভ। যখন কোনো বিরোধী নেতা বিদেশি হামলার আহ্বান জানায়, তখন সে সহজ বর্ণনা হিসেবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অজুহাত দেখাতে পারে: বিরোধিতার মানেই বিদেশি ষড়যন্ত্র। সত্য হোক বা না হোক, এই বয়ান জনপরিসর সংকুচিত করে।
ইরানকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া মানে তাকে বাইরের শক্তির দাবার বোর্ড হিসেবে না দেখা। যুদ্ধ খুব কম ক্ষেত্রেই পরিষ্কার গণতান্ত্রিক সুযোগ তৈরি করে। যুদ্ধ বরং জরুরি শাসন, মিলিশিয়া রাজনীতি, প্রতিশোধের চক্র ও অর্থনৈতিক পতন ডেকে আনে।
তাহলে দায়িত্বশীল বিরোধী কণ্ঠ কী দাবি করে? তাঁর দাবি বোমা নয়, বরং নাগরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, আইনি ও কূটনৈতিক জবাবদিহি এবং মানুষের বাস্তব আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেওয়া। এগুলো ধীর মনে হতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের একমাত্র টেকসই ভিত্তি জনসমর্থন, এর ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকে।
শেষ পর্যন্ত পাহলভির আহ্বানের বিরোধিতা ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি নীতিগত প্রশ্ন। যুদ্ধ স্বাধীনতা হয়ে আসে না, এটি আগুন হয়ে আসে এবং তার পরিণতি সামাল দিতে আরও আগুন দাবি করে। সামরিক হস্তক্ষেপকে জীবনরক্ষাকারী শর্টকাট পন্থা হিসেবে উপস্থাপন করা মুক্তির পরিকল্পনা নয়, এটি ৯/১১ পরবর্তী যুগের সবচেয়ে বিপর্যয়কর রাজনৈতিক বিপণনের পুনরাবৃত্তি মাত্র। -অ্যালিস জনসন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একজন লেখক ও নীতিবিশ্লেষক, যার কাজ মূলত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সামরিকীকৃত সিদ্ধান্তের মানবিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে।

[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে‘র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button