যুক্তরাজ্যে প্রতারণা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

যুক্তরাজ্যে প্রতারণার ঘটনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল ব্যাংকিং সংস্থা অনুসারে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংক গ্রাহকদের ৭৫৪ মিলিয়ন পাউন্ড চুরি হয়েছে, যা ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
‘ইউকে ফাইন্যান্স’ বলেছে প্রতারকেরা করোনাভাইরাস মহামারীকে পুঁজি করে তাদের প্রচারণা চালিয়েছে, বিশেষভাবে তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ১৪ বছর বয়সী তরুণ ছেলে মেয়েদের অর্থ ট্রান্সফারের কাজে ব্যবহার করছে। ব্যাংক ট্রান্সফার কেলেঙ্কারি থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ ৩৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছে, বলা যায় দৈনিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড। এ ধরনের প্রতারণার মোট সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৪টি, যা প্রতি আধা ঘন্টায় ১২ ব্যক্তি প্রতারিত হওয়ার সমান। এক্ষেত্রে চুরিকৃত অর্থ ব্যাংক সিস্টেমের বাইরে দ্রুত সরিয়ে নিতে ক্রিপ্টোকারেন্সিসমূহের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে।
গ্রাহক সংস্থাগুলো বলেছে, ব্যাংকসমূহ প্রায়ই ভুলভাবে প্রচারণার জন্য তাদের গ্রাহকদের দায়ী করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে ইউকে ফাইন্যান্স বলেছে অধিকাংশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে ব্যাংকিং সিস্টেম বাইরে। তারা বড়ো বড়ো টেক কোম্পানিকে তাদের প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত প্রতারণা প্রতিরোধে অধিকতর তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।
কাস্টমার সংস্থা ‘হুইচ?‘ বলেছে মহামারীর সময় খোয়ানো অর্থের পরিমাণ বিশাল। বিগত বছরগুলোতে বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনায় সাধারণত ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে কিন্তু চলতি বছর প্রতারকেরা অথোরাইজড পুশ পেমেন্ট প্রতারণার দিকে নজর দিয়েছে।
অপরাধীরা নিজেদের প্রকৃত গ্রাহক পরিচয় দিয়ে তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাতে বলছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে। এক্ষেত্রে তারা ই-মেইল একাউন্ট হ্যাক করছে।
অনেক সময় এমন সব লোকজন জড়িত হচ্ছেন, যারা একটি সম্পত্তি ক্রয় করছেন কিংবা ভবনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকেরা ডেলিভারি কোম্পানি, রোমান্স প্রার্থী কিংবা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button