২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের ‘প্রোজেক্ট স্পীড’ মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশব্যাপী ‘প্রোজেক্ট স্পীড’ হিসেবে কথিত ফার্স্ট ট্র্যাকিং মেজর বিল্ডিং প্রোজেক্টসমূহের পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। করোনা মহামারি মোকাবেলায় জাতীয় উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করতে এ ধরণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। দেশের কোভিড-উত্তর পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বরিস জনসন আগামী মঙ্গলবার এক ভাষণে স্কুল, হাসপাতাল, সড়ক এমনকি কারাগার নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেবেন।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, দেশব্যাপী এনএইচএস নাইটেঙ্গেল হাসপাতালগুলো নির্মাণে যে ত্বরিৎ গতি সৃষ্টি হয়, তা মিঃ জনসনকে অবকাঠামো সরবরাহ টাস্কফোর্স প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে, চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক যার সভাপতি হিসেবে থাকবেন। গ্রুপকে বলা হবে, একটি জাতীয় ইমার্জেন্সীর সময় দেশ চলতে পারছে এটা প্রদর্শনের পর কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়নে বিলম্বের কোন অজুহাত এখন গ্রহনযোগ্য নয়।
টাস্কফোর্স বড়ো অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের নীল নকশাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে এবং যে কোন অযোগ্যতাকে দূর করার চেষ্টা করবে, যা এগুলোর সরবরাহ অব্যাহত রাখবে এবং দেশকে পূর্বের গতিশীলতায় স্থাপন করবে। টাস্কফোর্সকে দেশব্যাপী প্রত্যেক নগরী, শহর ও গ্রামে কমিউনিটিসমূহকে অবকাঠামো আনীত উন্নয়ন থেকে অধিকতর দ্রুত সুবিধা গ্রহন নিশ্চিত করতে বলা হয়।
ডাউনিং স্ট্রিট-এর জনৈক মুখপাত্র বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা এটাই দেখিয়েছে যে, আবশ্যকীয় প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে বহু বছর লাগে না, নাইটিঙ্গেল হাসপাতালগুলো ও ভেন্টিলেটর চ্যালেন্জ গ্রহন করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চালু হয়। মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পর আমাদেরকে অবশ্যই এদেশের ভিত্তিমূলে বিরাজমান বড়ো প্রকল্পগুলোর প্রতি একই জরুরী বিষয় প্রয়োগ করতে হবে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে এবং সারাদেশে প্রকৃত উচ্চ পর্যায়ের সুবিধাদি পৌঁছে দিতে হবে।
জানা গেছে,মিঃ জনসন আগামী সপ্তাহে ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের অবকাঠামো প্রকল্প ঘোষনা করতে যাচ্ছেন। এতে ৪০টি নতুন হাসপাতাল স্থাপন, ১০ হাজার কারাগারের জায়গা এবং একটি স্কুল পুনঃনির্মাণ কর্মসূচী অন্তর্ভুক্ত।
কর্মকর্তারা বলেন, মিঃ জনসন ব্রিটেনের ব্যতিক্রমধর্মী অবকাঠামো নির্মাণের ‘গৌরবময় ঐতিহ্যের’প্রতিফলন ঘটাতে চান, যা ভিক্টোরীয় আমলে নির্মিত রেলওয়ে এবং টেমস্ নদীর বাঁধে প্রতিফলিত, যে বাঁধ লাখ লাখ লন্ডনবাসীকে বন্যা থেকে সুরক্ষা দিয়েছে।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যে প্রথম এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনেকের আশংকা যদি আগস্টের মধ্যে সরকারী সহায়তা ঘোষনা করা না হয়, তবে আরো ১০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে দেশের ২৮ লাখ মানুষ চাকুরী ও কর্ম হারিয়েছে।
হাউস অব কমন্স -এর নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকারত্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা বিগত আশির দশকের পর এতো বেশী আর কখনো পরিলক্ষিত হয়নি। মার্গারেট থ্যাচারের শাসনামলে ১৯৮৪ সালে বেকারত্ব ৩.৩ মিলিয়নে পৌঁছে।
দেশ যখন তার ভিত্তির ওপর পুনরায় ফিরে যেতে সচেষ্ট, তখন কর বৃদ্ধি পরিহারের আহবান জানান রক্ষণশীল দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর। তার এ আহবানের পর ডাউনিং স্টিট অবকাঠামো সংক্রান্ত উদ্যেগের বিষয় নিশ্চিত করে।
জন মেজর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর বৃদ্ধি হবে একটি ‘ভুল’ ।তিনি সরকারকে বর্তমানে বিদ্যমান লভ্য নিম্ন সুদের হার কাজে লাগিয়ে ঋণ গ্রহণের আহবান জানান।
সাবেক চ্যান্সেলার বলেন, আমি মনে করি, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আগে কর বৃদ্ধি একটি ভুল হবে। তবে সময়ের সাথে, আমি মনে করি, করও বৃদ্ধি পাবে নিঃসন্দেহে।ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, অবকাঠামো ডেলিভারি টাস্কফোর্স-এর সদস্যপদ যথানিয়মে গঠন করা হবে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button