প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে জেরেমি করবিন?

ব্রেক্সিট নিয়ে নানামুখী অনিশ্চয়তায় ভাটা পড়েছে বৃটেনের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তায়। একগাদা জনমত জরিপে দেখা গেছে, শিগগিরই নির্বাচন হলে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন হয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থায় কনজারভেটিভ পার্টির ওপর মানুষের বিক্ষুদ্ধ হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেছে এসব জরিপে।

সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপের গড় বিশ্লেষণীতে দেখা গেছে, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কনজারভেটিভ দল ৫৯টি আসন হারাবে। লেবার পার্টি হবে পার্লামেন্টের সবচেয়ে বেশি আসনধারী দল। তবে এতেই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না দলটি। তবে অন্যান্য প্রগতিশীল দল এসএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটস বা চেঞ্জ ইউকে’র সঙ্গে মিলে অনায়াসেই সরকার গঠন করতে পারবে দলটি।
কনজারভেটিভ দলের যেসব হাইপ্রোফাইল নেতার আসন টলমলে তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সাবেক নেতা ইয়ান ডানকান স্মিথ ও ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন্স বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড।

অপিনিয়ামের করা পৃথক জরিপে দেখা গেছে কনজারভেটিভ দলের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছে লেবার দল। গত সপ্তাহে ইউগভ-এর করা জরিপে গত ৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থা দেখা গেছে কনজারভেটিভ দলের।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের দলকে সমর্থন দিচ্ছেন মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার। এপ্রিলের শুরুতে করা জরিপের তুলনায় এই হার ৪ শতাংশ কম। ২০১৭ সালে টোরি দলকে ভোট দিয়েছেন এমন ভোটারদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বলছেন তারা ফের দলটিকে ভোট দেবেন। এ মাসের শুরুতে বেশ কয়েকজন কনজারভেটিভ দলীয় অ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান দলের প্রচারাভিযান দপ্তরকে লেখা চিঠিতে লিখেছেন, মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ধুলায় মিশে যাবে। এরপর থেকে শাসক দলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

হানবারি স্ট্রেটজির করা আরেক জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচনে লেবার দলকে ৩৭ শতাংশ ও কনজারভেটিভ দলকে ২৩ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিচ্ছেন।
তবে রক্ষণশীল দলের এই দুর্দশায় লাভবান হয়েছে নাইজেল ফারাজের নতুন দল ব্রেক্সিট পার্টি। স্থানীয়, জাতীয় ও ইউরোপিয়ান নির্বাচন- সবক্ষেত্রেই সমর্থন বেড়েছে দলটির।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close