নিউইয়র্ক সাবওয়ের ভগ্নদশা

জনভোগান্তি ও ভঙ্গুর দশার জন্য বারবার শিরোনাম হয়েছে নিউইয়র্কের পাতাল রেল বা সাবওয়ে ব্যবস্থা। নিউইয়র্কের প্রশাসনকে এ জন্য শুনতে হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। দীর্ঘদিন ধরে হওয়া বহু ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই এই অবস্থায় এসেছে নিউইয়র্কের পাতাল রেল ব্যবস্থায়।

লাইনচ্যুত হওয়া, রেললাইনে আগুন কিংবা টানেলে আটকা পরা নিউইয়র্কের পাতাল রেলে জনভোগান্তির নিত্যকার চিত্র। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যস্ততম মুহূর্তে নির্ধারিত ট্রেনের বিলম্বের মতো নিয়মিত বিষয়। নিউইয়র্ক টাইমস–এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড়ে পর্যুদস্ত পুরোনো সাবওয়ে ব্যবস্থা যখন সংস্কার দাবি করছে, তখন নিউইয়র্ক শহর ও অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকেরা এদিকে নজরই দেননি। বরং এ বাবদ ব্যয় সংকোচন করে অর্থ লগ্নি করেছেন অন্য সব চিত্তাকর্ষক খাতে।

শতবর্ষী টানেল ও রেলপথ যখন ভেঙে পড়ছে, তখনো মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথোরিটি (এমটিএ) সাবওয়ের সংস্কার বাজেট বাড়ায়নি। বরং ২৫ বছর আগের হারেই বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ এর মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে গেছে বহুবার।

পর্যাপ্ত অর্থ নেই, এই অজুহাতে এক দশকের ব্যবধানে শত শত মেকানিকের পদ বাতিল করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে সাবওয়ে ব্যবস্থাপকদের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ বার্ষিক ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ডলার।

দুই দশকে নিউইয়র্ক সাবওয়েতে যাত্রী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বর্তমানে ৫৭ লাখে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে একমাত্র নিউইয়র্কেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে রেললাইন কমেছে। এ লাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া হলেও বেসরকারি কন্ট্রাক্টর ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারায় তা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close