ইসরায়েলী গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ

শনিবার বিশ্বজুড়ে সমন্বিত ফিলিস্তিন-পন্থী মিছিলে যোগ দিয়েছে লাখ লাখ মানুষ, যারা গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যার নিন্দা জানাতে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বর্ণবাদের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে বিক্ষোভ করেছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩২৫টি কর্মসূচিতে এই সংহতি প্রকাশ ঘটে, যার মধ্যে শুধু ইউরোপেই ১৭৬টি। আয়োজকরা অনুমান করেছেন, লন্ডনের মিছিলে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দিকে মিছিল করার সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের গণহত্যা “বন্ধ” করার দাবিতে এবং “ফ্রি প্যালেস্টাইন” ঘোষণা দিয়ে প্ল্যাকার্ড বহন করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েল ৭৪ হাজার ৩৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, তাদের স্মরণে মিছিলকারীরা দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। তাদের হামলায় অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭১ জন আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য সরকার যেনো ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা বর্ষণে ইসরায়েল যে অস্ত্র ব্যবহার করে তা সরবরাহ বন্ধ করে।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের পরিচালক আইমি শালান এএফপিকে বলেন, “আমরা আজ এখানে গাজায় চলমান গণহত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এসেছি”।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় তখন থেকে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩২৭ জন শিশু।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইপিএসসি চেয়ার জো ললর গাজা যুদ্ধবিরতিকে “একেবারেই কাল্পনিক” বলে অভিহিত করেন এবং সাহায্য, জ্বালানি ও খাদ্যের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানান, আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আরটিই তার এই মন্তব্য প্রচার করেছে। ললর বলেন, আইরিশ সরকার “ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টালবাহানা ও পিছিয়ে গিয়ে” ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার “দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে”। বার্লিনে, ফেডারেল চ্যান্সেলরির বিপরীতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা নেড়েছে এবং “দখলদারি সন্ত্রাস বন্ধ করো” লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে রেখেছে। তারা “ফ্রি প্যালেস্টাইন, ফ্রি প্যালেস্টাইন” এবং “ফাক ইউ ইসরায়েল” বলে স্লোগান দিয়েছে। শুক্রবার ১০০টিরও বেশি মানবিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজ সংগঠনের যৌথ বিবৃতির পর এই মিছিলগুলো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বলা হয়, গাজা যুদ্ধবিরতি “নামেই বিদ্যমান, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আহত করা অব্যাহত রেখেছে, এবং সাহায্য, সরঞ্জাম ও পুনর্নির্মাণ সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা পরিবারগুলোকে পুনরুদ্ধার হতে বাধা দিচ্ছে।”
যৌথ বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান এগেল্যান্ড বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পুরো এক বছর পরেও গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য এত কম উন্নতি হয়েছে”। সেইভ দ্য চিলড্রেন-এর প্রধান নির্বাহী আশিং
বলেন,”যুদ্ধবিরতি অর্থহীন যদি শিশুরা এখনও নিহত হয় এবং পরিবারগুলো এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, “প্রায় প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।” -এলিস জেভোরি, ইস্তাম্বুলভিত্তিক একজন সাংবাদিক। তিনি বলকান অঞ্চল, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করেন।

[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button