পরিচালকের পদত্যাগ

ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে কয়েকশ’ শিল্প সামগ্রী খোয়া গেছে

ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে শ’খানেক ঐতিহাসিক শিল্প সামগ্রী খোয়া গেছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এসব খোয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বর্নমুদ্রা, রূপার হার এবং ৫৪০ টি পোটারি বা পাত্র। প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ মিউজিয়াম জানিয়েছে যে, মিউজিয়ামের সংগ্রহশালা থেকে হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া কিংবা বিনষ্ট হওয়া সামগ্রীগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করছে পুলিশ।
লন্ডন ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান বরখাস্তকৃত একজন স্টাফের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মিডিয়ায় প্রকাশিত এক সংবাদে জানা গেছে, তথ্য অধিকারের আওতায় মিউজিয়ামের কাছে বিষয়টি জানার জন্য অনুরোধ করা হলে জানানো হয় যে, একটি রূপার গ্রীক মুদ্রা এবং একটি জামার্ন মুদ্রা ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে মিউজিয়াম থেকে খোয়া যায়। এছাড়া গত ১০ বছরে খোয়া যাওয়া সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে বিংশ শতকের প্রথম দিকের একটি আংটি, রাউন্ড সেকশন্ড সিলভার ওয়ারের তৈরী একটি হার, প্রাণীর আকৃতির কাঠের তৈরী অপিয়াম পপি স্কোরার, গ্লেজড লীফ পেন্ডেন্ট ও চুমকিসমূহ। বিবিসি নিউজের কাছে ফাঁস হওয়া ই-মেইল দাবি করে যে, মিউজিয়াম জনৈক প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী ব্যবসায়ী হট্টাই গ্রেডেলকে এ ব্যাপারে সন্দেহ করছে। ২০২১ সালে ই-বে-তে এগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে তারা এটা অস্বীকার করেছে।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালক হার্টউইগ ফিশার গত বুধবার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন যে, মিউজিয়ামের সংগ্রহশালা থেকে এতো শিল্পসামগ্রী খোয়া যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিলো না, যখন এ ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ২০২১ সালে যখন আমাদের কাছে অভিযোগ আনা হয়, তখন আমরা বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য রকম গুরুত্বের সাথে গ্রহন করি এবং অবিলম্বে তদন্তের ব্যবস্থা করি। কিন্তু যিনি অভিযোগ আনেন তিনি বিষয়টি অনেকাংশে গোপন রাখেন। ২০২২ সালে পূর্নাঙ্গ নিরীক্ষন চালালে একটি বড়ো সমস্যা প্রকাশিত হয়। আমার উদ্বেগের বিষয় আমি ট্রাস্টিদের জানাই, ফলে স্টাফদের একজনকে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে চুরি হওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ মিউজিয়াম এর পরিচালক হার্টউইগ ফিশার। একইসঙ্গে দায়িত্ব থেকে সাময়িক ইস্তফা দিয়েছেন তার ডেপুটি জোনাথন ইউলিয়ামসও।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পরিচালক হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করলেন হার্টউইগ ফিশার। তিনি বলছেন, “চুরির বিষয়ে ‘মিউজিয়াম সর্বসম্মতভাবে সাড়া দেয়নি’, যেটি ২০২১ সালে তথ্য-প্রমাণের নথিপত্র দাখিলের সময় করা উচিত ছিল।” ফিশারের পদত্যাগের ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর তার ডেপুটি জোনাথন উইলিয়ামস জানান, ওই ঘটনায় ব্রিটিশ মিউজিয়ামের চেয়ারম্যান জর্জ অসবোর্ন নির্দেশিত স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় তিনি স্বাভাবিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।
ফিশার ও তার ডেপুটি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে মিউজিয়ামকে সংকটের পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে ‘অস্থির সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেন চেয়ারম্যান জর্জ অসবোর্ন। আপাতত অস্থিরতার এই পরিস্থিতি সামলাতে এখন একজন অন্তর্র্বতীকালীন পরিচালক নিয়োগ করতে হবে তাকে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button