দীর্ঘ ২৭ বছর পর নামাজ হবে ইউরোপের যে মসজিদে

আবরার আবদুল্লাহ: দীর্ঘ ২৭ বছর পর আবারও আজান হবে ইউরোপের মুসলিম দেশ বসনিয়ার আলাকা মসজিদে। বসনিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৯২ সালে মসজিদটি ধ্বংস করা হয়। তারপর দীর্ঘ ২৭ বছর আজান ও নামাজ বন্ধ থাকে তাতে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ৪ মে মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফোসা শহরের অবস্থিত এই মসজিদটিকে ১৯৯০ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছি সার্ব বাহিনী। শুধু আলাকা মসজিদ নয়; বরং সার্ব বাহিনী শহর দখল করে নেওয়ার পর প্রায় সবগুলো মসজিদ ধ্বংস করে দেয়।

আলাকা মসজিদটি বসনিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ। যা উসমানীয় শাসন আমলে তুর্কিরা নির্মাণ করেছিলো। ঐতিহাসিক এই মসজিদকে এক সময় বলা হলো বসনিয়ার ‍মুক্তা বা ফোসার সৌন্দর্য।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর ২০১৪ সালে তুরস্কের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মসজিদের পুনঃনির্মাণ শুরু করে। পাঁচ বছর পুনঃনির্মাণের কাজ চলার পর এই বছরের ৪ মে মসজিদটি সাধারণ মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই দিনটিতে বসনিয়ান মুসলিমরা মসজিদ দিবস হিসেবে উদযাপন করেন।

তারা দিনটিকে উদযাপন করেন সার্ব বাহিনীর হাতে ধ্বংস হওয়া হাজারো মসজিদের নির্মম শাহাদাতকে স্মরণ করতে। এই দিনে তারা মসজিদে উপস্থিত হন এবং বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করেন। মসজিদ পুনঃনির্মাণ ও উন্নয়নে দিনটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

আলাকা মসজিদ ১৫৪৯ সালে নির্মাণ করা হয়। বসনিয়ার মাটিতে তুর্কি স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করে প্রথম নির্মিত মসজিদ এটি। ১৯৯২ সালে সার্ব বাহিনী ডিনামাইট ব্যবহার করে মসজিদটি ধ্বংস করে দেয়। যুদ্ধের সময় ফোসা শহরের অবস্থিত ১২টি মসজিদের সব ক’টি ধ্বংস করে দেয় তারা।

ইসলামিক ইউনিয়ন অব বসনিয়া-এর ভাষ্য মতে যুদ্ধের সময় বসনিয়ার ৬১৪টি মসজিদ, ২১৮টি প্রার্থনা কক্ষ (ছোট মসজিদ), ৭০টি মাদরাসা, ৪টি খানকা, ৩৭টি মাজার এবং ৪০৫টি ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস করে সার্ব বাহিনী। এছাড়াও সার্ব অঞ্চলে অবস্থিত ৫৩৪টি মসজিদ এবং ক্রোট অঞ্চলের ৮০টি মসজিদও ধ্বংস করে তারা।

ইসলামিক ইউনিয়নের দাবি হলো, বসনিয়ার ১১৪৪ মসজিদের ৮০ ভাগ ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত করে সার্ব ও ক্রোট বাহিনী। এ সময় তারা অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা ধ্বংস করে এবং কমপক্ষে ১০০ ইমামকে হত্যা করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close