জমিয়ত হিন্দ থেকে মাহমুদ মাদানীর পদত্যাগ

তাওহীদ আদনান: ভরতে মুসলমানদের নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে পুরাতন, সচল ও ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর জেনারেল সেক্রেটারি এবং সাবেক পার্লামেন্ট মেম্বার মাওলানা মাহমুদ মাদানী গতকাল বুধবার জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ থেকে পদত্যাগ করেছেন৷ খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বমহলে শুরু হয় গুঞ্জন৷

বুধবার বিকেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাওলানা মাহমুদ মাদানীর পদত্যাগনামা সম্বলতি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি অফিসিয়াল লেটার প্যাড দেখা যাচ্ছে৷ লেটার প্যাডে মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্যক্তিগত ওযরের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন৷

জমিয়তের (মাহমুদ মাদানী অংশ) সভাপতি মাওলানা ক্বারী উসমান মানসুরপুরী বরাবর লিখিত উক্ত পদত্যাগনামার নিচে সাক্ষরও রয়েছে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর৷ মাওলানা মাহমুদ মাদানী জমিয়তের অফিসিয়াল লেটার প্যাড ব্যবহার করে সভাপতি মাওলানা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীকে সম্বোধন করে সংক্ষিপ্তাকারে একটি পদত্যাগনামা লিখেছেন৷

সেখানে তিনি বলেছেন, ‘নিজের সমস্ত অযোগ্যতার কারণে এবং ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে আমি জমিয়তের সমস্ত দায় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলাম৷’ পদত্যাগনামাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জমিয়তের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকলেও পরিশেষে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়৷

ভারতীয় উর্দু অনলাইন পোর্টাল নিউজ-১৮ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা মাওলানা মাহমুদ মাদানীকে এ ব্যাপারে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি৷ ওই নিউজ পোর্টালে অপর একটি প্রতিবেদনে তারা লিখেছেন, ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম মাওলানা মাহমুদ মাদানীর সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে মাওলানা মাহমুদ মাদানী তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাদের৷ তবে কী কারণে পদত্যাগ করেছেন তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পদত্যাগনামাতেই উল্লেখ রয়েছে কারণ৷

অপরদিকে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর পদত্যাগের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে গুঞ্জন৷ ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের বিশ্লেষণই হচ্ছে তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে৷ মাওলানা মাহমুদ মাদানীর ব্যক্তিত্বই এমন যে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে তোলকালাম হবেই৷ তাই তার পদত্যাগের বিষয়ে সর্বমহলেই চলছে গুঞ্জন৷

কোনো কোনো গণমাধ্যমের দাবি এবার জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মাঝে ভাঙ্গন আরো বৃদ্ধি পাবে ধীরে ধীরে৷ আবার অনেক গণমাধ্যম বলেছে ভারতের দুই জমিয়তের মাঝে ঐক্যের সূচনা স্বরূপ কাজ করবে এই পদত্যাগ৷ তবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যে কোনো ধরণের আলোচনাই হোক না কেনো, মাওলানা মাহমুদ মাদানীর পদত্যাগ জমিয়তের জন্য এবং বর্তমান মুসলিম সমাজের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

উল্লেখ্য, মাওলানা মাহমুদ মাদানী তার বাবা মাওলানা আসআদ মাদানীর জীবদ্দশা থেকেই জমিয়তের মাঝে সরব ছিলেন এবং জেনারেল সেক্রেটারীর পদে অধিষ্টিত ছিলেন৷ তার বাবার ইন্তেকালের পরও তিনি উক্ত পদেই বহাল ছিলেন৷ ২০০৮ সনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মাঝে ভাঙ্গনের প্রেক্ষিতে জমিয়ত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলে একাংশ চলে যায় মাওলানা আসআদ মাদানীর ভাই মাওলানা আরশাদ মাদানীর তত্ত্বাবধানে৷ অপর অংশ চলে আসে মাওলানা আসআদ মাদানীর ছেলে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর তত্ত্বাবধানে৷ যে অংশ মাওলানা মাহমুদ মাদানীর নেতৃত্বে চলে আসে তিনি নিজে সে অংশের সভাপতি হওয়ার বিপরীতে দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীকে সভাপতি বানিয়ে নিজে জেনারেল সেক্রেটারীর পদে বহাল থেকেই এ পর্যন্ত খেদমত আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন মুসলমানদের৷

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close