ইউকেএক্সক্লুসিভ

মেগান মার্কেলের পোষাকে নাটকীয় পরিবর্তন

বাকি জীবন শালীন পোশাক পরতে হবে

meghanবহু মানুষই রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এক্ষত্রে যেসব নিয়ম-কানুন আছে তা মানতে প্রস্তুত নন।
রাজ পরিবার সম্পর্কে লোকে যাই ভাবুক না কেন, তারা রাজ পরিবারের মানুষদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে এখনো ভালোবাসে। রাজ পরিবারের সদস্যদের যে বিষয়টির প্রতি মানুষের বেশি আগ্রহ সে হচ্ছে তাদের ফ্যাশন ও স্টাইল জ্ঞান। বিশেষ করে তারা যে পোশাক পরে খবরের বিষয় হন।
লেডি ডায়ানার রিভেঞ্জ পোশাকের কথা মনে পড়ে? অথবা প্রিন্সেস বিয়াত্রিচের হ্যাটের কথা? উদাহরণ হিসেবে প্রিন্স জর্জের সেকেলে শর্টস, দীর্ঘ মোজা ও জুতার কথা উল্লেখ করা যায়। আজকের দিনে কেউ তার বাচ্চাদের এ ভাবে পোশাক পরাবে? ভালো কথা, তার পিতামাতা তা করেন কারণ তারা একটা নিয়ম মেনে চলেন যা বলে যে ছোট ছেলেরা আট বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত লম্বা প্যান্ট পরতে পারবে না। এ রকম বহু নিয়ম আছে যা রাজ পরিবারের সবাইকে অবশ্যই মানতে হয়। এ কারণেই নয়া ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল প্রিন্স চার্লসের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে বাকিংহাম প্রাসাদে তার প্রথম উপস্থিতির সময় তার স্টাইলে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন।
তার অত্যন্ত শালীন পোশাক সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সষ্টি করে। বিষয়টা হল প্রিন্স হ্যারির সাথে সম্পর্ক হওয়ার পরও তিনি নতুন ও আধুনিক স্টাইল বজায় রেখেছিলেন, কিন্তু এবারের বিষয়টি ছিল আলাদা। শুরুতে তিনি মাথায় একটি বড় হ্যাট পরে উপস্থিত হন যা কার্যত তার মসৃণ ঝলমলে চুলের প্রায় পুরোটাই ঢেকে রেখেছিল। এরপর আমরা যদি তার পোশাকের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব যে তা তিনি নিচু ঝুলের কম আকর্ষণীয় পোশাক পরেছিলেন যা আমার মতে তেমন প্রশংসাযোগ্য নয়। লোকজনের মন খারাপ করা যে বিষয়টি তা হল তিনি আসলেই ফ্যাকাশে, ক্রিম কালার আঁটসাঁট পোশাক পরেছিলেন যা কোনো ভাবেই তার গায়ের রঙের সাথে মানানসই ছিল না , সে কারণে তাকে মোটেই ভালো দেখাচ্ছিল না। ‘দি ইংলিশ ম্যানার’-এর প্রধান নির্বাহী আলোকজান্দ্রা মেসারভির মতে, সম্ভবত রাণী রাজপরিবারের মহিলা সদস্যদের জনসমক্ষে তাদের নগ্ন পা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছেন। তাই এখানে আসল প্রশ্ন এই যে মেগান তার নতুন পরিবারের নিয়ম মেনে চলতে তার রুচি ও স্টাইলের সাথে কতটা পরিমাণ আপস করবেন?
স্টাইলের দিক দিয়ে তাকে সম্ভবত নতুন কেউ হতে হবে , কারণ তাকে এমন অনেক শিষ্টাচার নিয়ম মেনে চলতে হবে যা আসলে তার নিজস্ব ব্যক্তিগত স্টাইলের সাথে মেলে না, অন্তত এখন পর্যন্ত আমরা তার যেটুকু দেখেছি তার সাথে নয়। তার একটি হচ্ছে রঙ্গিন নেলপলিশের বেলায় না অর্থাৎ তাকে বিবাহিত জীবনের বাকি সময়ের জন্য নুড কালার ব্যবহার করতে হবে। এখন উজ্জ্বল রং যদি আপনার বিষয় না হয়ে থাকে তাহলে তা কোনো সমস্যা নয়। বুঝুন যে আপনার নখ কমলা বা লাল রঙে রাঙাতে পারবেন না। অবশ্য এ নিয়ম শুধু জনসমক্ষে উপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য, তবুও এটা তার ইচ্ছেমত রং করার স্বাধীনতাকে নিষিদ্ধকারী। এ নিষেধাজ্ঞা তার বুকের খাঁজ অথবা নগ্ন বাহু ও পা প্রর্দনের ক্ষেত্রেও, যা আগে বলা হয়েছে। আপনি যদি রাজপরিবারের অন্য মহিলাদের দিকে লক্ষ্য করেন তবে দেখতে পাবেন যে তারা বিষয়টি সূ² কৌশলেসামাল দিয়েছেন।
আরেকটি পুরনো আইন হল রাজপরিবারের নারীদের সরকারী কোনো অনুষ্ঠানে প্যান্ট পরার অনুমতি নেই। তার অর্থ তারা সে পোশ্কা পরতে পারবেন যা হাঁটুর নিচে নেমেছে। এখন পুরনো ঐতিহ্য থেকে আসা কিছু নিয়ম যা অউপেক্ষণীয়, কিন্তু সেগুলোর কিছু একেবারে অর্থহীন এ কারণে যে সেগুলো আসলে রাণীর ব্যক্তিগত পছন্দ। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ্য যে রাজ পরিবারের নারীরা রাণীর সামনে ওয়েজ পরতে পারেন না। কেন? কারণ তিনি তা পছন্দ করেন না । এখন আমার প্রশ্ন, এটা কি আসলে ঠিক? আপনি বলতে পারেন যে তিনি বিশে^র অন্যতম ধনী ও অত্যন্ত সম্মানিত পরিবারে যোগ দিয়েছেন, তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে নাযা তাদের সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত করেছে। এ এক বিরাট ব্যাপার। তিনি যে নারীবাদী হওয়ার দাবি করেন, তা কি এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত নয়?
শুরুর জন্য তাকে মূলত তার বিয়ের কারণে তার সারা জীবনকে বিসর্জন দিতে হবে। তিনি তার স্টাইল পরিবর্তন করেছেন, অভিনয় ত্যাগ করেছেন এবং অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখনো বহু লোক দাবি করেন যে ক্ষমতার নতুন অবস্থানের কারণে তিনি যে সব বিষয়ে আগ্রহী সেগুলোর ব্যাপারে আসলেই কিছু করতে পারবেন। এটা হতে পারে (আমি সেটাই আশা করি), কিন্তু যদি আমরা সৎ ও বাস্তববাদী হই,সম্ভাবনা আছে যে তিনি রাজপরিবারে এক প্রকার বিদ্রোহী না হওয়া পর্যন্ত, যারা রাজ পরিবারের নিয়ম-রীতির বাইরে যান, তিনি বেশি কিছু করতে সক্ষম হবেন না। আমি বলতে চাইছি, তিনি যখনি চেয়েছেন এমনকি কালো পোশাকও পরেছেন (এমন কিছু যেটাও নিষিদ্ধ) এবং তিনি ¯িøভলেস ও হাঁটুর উপর পর্যন্ত ঝুলের পোশাকও পরেছেন। সুতরাং যতক্ষণ না তিনি তা করছেন , আমি বুঝতে পারছি না একজন নারীবাদী কর্মী হয়ে কিভাবে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন।
পরিশেষে কথা, আমি আসলে বিশ^াস করি যে এ সব নিয়ম-কানুনের অধিকাংশই শুধু রাজবংশের ভাবমর্যাদা দেয়া ছাড়া আরো বেশি কিছু। সেগুলোর অর্থ রাজপরিবারের সদস্যদের তাদের ব্যক্তিত্ব থেকে সংযত ও বিচ্ছিন্ন রাখা যাতে তারা এক রক্ষণশীল ও ঐতিহ্যবাহী ভাবমর্যাদার উত্তরাধিকারী হন। তাই আমি আসলেই আশা করি যে মেগান তার অবস্থান গ্রহণের একটি পথ খুঁজে পাবেন ও তার কাজ অব্যাহত রাখবেন অথবা কমপক্ষে তার নতুন জীবনকে এমন কিছুতে রূপান্তর করবেন না যা আসলে তার নয়। -কালচারা কালেক্টিভা

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close