অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন তদন্ত বাদ দেবে সুইডেন

Wikiউইকিলিকস ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে দায়ের করা যৌন অসদাচরণ অভিযোগের তদন্ত বাদ দিতে যাচ্ছে সুইডেন। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে না পারায় সুইডেনের তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার তদন্ত বাতিল করতে বাধ্য হবে বলে জানা গেছে।
তবে এর পরও অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনা আরো গুরুতর অপরাধ ধর্ষণের অভিযোগ রয়েই যাবে। এর আগে অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে সুইডেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু তদন্তকারীরা অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সফল হওয়ার আগেই তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ফুরিয়ে গেছে। ফলে তদন্তের ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টায় এসব করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অ্যাসাঞ্জ।
ব্রিটেন থেকে সুইডেনে হস্তান্তর ঠেকাতে ইকুয়েডরে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে গত তিন বছর ধরে লন্ডনে দেশটির দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে আছেন অস্ট্রেলীয় এই সাংবাদিক ও অধিকার আন্দোলনকর্মী।
সুইডেনের আইন অনুযায়ী, সন্দেহভাজনের সাক্ষাত্কার না নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা যায় না। যৌন হেনস্থার একটি অভিযোগ ও বলপ্রয়োগ করার আরেকটি অভিযোগে অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত সময় ছিল তদন্তকারীদের হাতে। আর যৌন হয়রানির আরেকটি অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের সময়সীমা ১৮ অগাস্ট শেষ হবে।
তবে ধর্ষণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার সকালে সুইডেনের তদন্ত দপ্তর থেকে এসব বিষয়ে একটি ঘোষণা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাসাঞ্জের সমর্থকেরা মনে করেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। সুইডেনের হাতে হস্তান্তর করা হলে দেশটি তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে বলে মনে করেন অ্যাসাঞ্জ। তাকে পেলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লাখ লাখ গোপন গোয়েন্দা নথি ফাঁস করার জন্য দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে বিচারের নামে ফাঁসিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা তার।
এ কারণেই সুইডেনে হস্তান্তর ঠেকাতে ইকুয়েডরে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে তাদের দূতাবাসে অবস্থান করছেন অ্যাসঞ্জ।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button