ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৫ ব্যাচের ঈদ আড্ডা: ২১ বছর পর কৈশোরের স্মৃতিতে ভাসলেন প্রাক্তনরা

“তোদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোই জীবনের সেরা স্মৃতি”—এই অমর বাণীকে সামনে রেখে ২৯ মে ২০২৬, শুক্রবার সিলেটের ইকো পার্কে জমে উঠেছিল ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ২০০৫ সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। এই আয়োজন ছিল যেন ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের এক অপূর্ব বন্ধন।
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল, সবাই একই রকমের টিশার্ট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন—যা তাদের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর একে অপরের সাথে দেখা, আলাপ, স্মৃতিচারণ—পুরো পরিবেশটি ছিল আনন্দ, আবেগ আর হাসিতে ভরপুর। স্কুলজীবনের দুরন্ত দিন, ক্লাসের মজার মুহূর্ত, শিক্ষকদের শাসন, বন্ধুত্বের গভীরতা—সবকিছু যেন তাদেরকে আবার কৈশোরে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন ও যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তারাও প্রযুক্তির সুবাদে ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে এই আড্ডায় সরাসরি যুক্ত হন। দূরে থেকেও তারা যেন মনে-প্রাণে উপস্থিত ছিলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আনন্দ ভাগ করে নেন—প্রমাণ করলেন বন্ধুত্বের বন্ধন কখনোই স্থান বা দূরত্ব দিয়ে মাপা যায় না।
এই মিলনমেলায় আরও বড় বিশেষত্ব ছিল তাদের পেশাগত বৈচিত্র্য ও সাফল্যের গল্প। একসময় একই শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করা বন্ধুরা আজ জীবনের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কেউ অর্জন করেছেন ডক্টরেট ডিগ্রি, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত; কেউবা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আবার কেউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হয়ে নতুন প্রজন্মকে আদর্শ ও শিক্ষায় গড়ে তুলছেন। শিক্ষকতার বাইরেও ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা, সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত নেতৃবৃন্দ। নানান পেশা ও কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করলেন, এই প্রতিষ্ঠান তাদের কেবল শিক্ষাই দেয়নি, বরং জীবন গড়ার মতো মানবিক ও পেশাগত যোগ্যতাও তৈরি করেছে।
প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে বসে তারা একে অপরের জীবনের গল্প শুনেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং স্মৃতি হয়ে থাকার মতো ছবি তুলেছেন। সবাই একমত হয়েছেন—এই মিলনমেলা কেবল আনন্দদায়কই ছিল না, বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উদ্যোগও বটে।
দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রাখা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সাথে কাজ করছেন। তাদের প্রত্যাশা, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, প্রতি বছর তারা এভাবেই মিলিত হবেন এবং পুরোনো স্মৃতিগুলো নতুন করে সাজাবেন। তাদের এই উপস্থিতি ও সাফল্য এক কথাই বলে দেয়: সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো শেষ হয় না, প্রতিটি মিলনেই তা নতুন রূপে ফুটে ওঠে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button