২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়

বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া এই মামলায় বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা রোডের বিশেষ আদালতে ঢাকার এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা ১২টায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা আলোচিত দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

রায়ের সময় লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ এ মামলার ১৮ আসামি পলাতক।

এর আগে পুলিশি পাহারায় সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন নাজিমুদ্দিন রোডের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। আদালতে এসে তিনি প্রথমে খাস কামরায় যায়। কিছুক্ষণ পর তিনি এজলাসে উঠেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের বিশেষ নিরাপত্তায় আলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরও রয়েছেন। গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারসহ কাশিমপুর ১ ও ২ নম্বর কারাগার থেকে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩১ আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

১৪ বছর আগের নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও হামলার সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা লুৎফুজ্জামান বাবর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আছেন, বাকি দুজন পলাতক।

কারাগারে থাকা ১৭ জন হলেন : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো: আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো: ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা: জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো: জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো: রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ ও মো: উজ্জল ওরফে রতন।

আর পলাতক দুজন হলেন, আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা মো: তাজউদ্দিন এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মো: হানিফ।

এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন: শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), মো: আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত), মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো: খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো: ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এ সময় ট্রাকে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চের সামনে (রাস্তায়) বসে থাকা নেতা-কর্মীদের উপর চালানো ওই নারকীয় হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। আহত হন আরো কয়েক শত নেতা-কর্মী। তবে ট্রাকে থাকা দলীয় সভানেত্রী সহ অন্যান্য নেতারা হামলা থেকে রক্ষা পান। ঐ সময় ট্রাকে শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন মায়া, আমির হোসেন আমু, শেখ সেলিম, আব্দুল জলিল, সাবেক মেয়র মোঃ হানিফ, ম.খা আলমগীর প্রমূখ। তারা মঞ্চে নেত্রীকে চারদিক থেকে আগলে রাখেন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close