লকডাউনকালে হোম অফিস শত লোক বহিষ্কারে ১মিলিয়ন পাউন্ডের বেশী ব্যয় করেছে

ব্রিটিশ হোম অফিস লকডাউন কালে শত লোককে বহিষ্কারকরনে ১মিলিয়ন পাউন্ডের বেশী ব্যয় করেছে। অপ্রয়োজনীয় সকল ভ্রমনের বিরুদ্ধে সরকারের সতর্কবাণী সত্বেও এটা করা হয়েছে। নতুন পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ৭টি চার্টার্ড ফ্লাইটে ২৮৫ ব্যক্তিকে আলবেনিয়া, রুমানিয়া, লিথুনিয়া ও পোলান্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের সাথে এসকর্ট হিসেবে ছিলেন ৩৭৪ ব্যক্তি। এতে দেশের করদাতাদের ১১ লাখ ৫ হাজার ৯শ’ ৩১ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছিলেন একজন পোলিশ নারী, যিনি ১০ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। শফলিফটিংয়ের জন্য অভিযুক্ত হওয়ার পর তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। পরে বহিষ্কার করা হয়। তাকে তার ১১ বছরের ছেলেকে যুক্তরাজ্যে ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয় ।

ক্যাম্পেইন গ্রুপ ’নো ডিপোর্টশন্স’ কর্তৃক তথ্য স্বাধীনতা সংক্রান্ত অনুরোধে প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায়, রুমানিয়ায় ৩টি চার্টার্ড ফ্লাইট, আলবেনিয়ায় ২টি এবং একটি করে পোলান্ড ও লিথুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছিলেন ২৬৮ জন পুরুষ ও ১৭জন নারী। তাদেরকে এমন এক সময় বহিষ্কার করা হয়, যখন সরকার এই বলে লোকজনকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, আবশ্যকীয় না হলে ভ্রমণ করা উচিত নয় এবং যখন আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণ শতকরা ৯৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছিলো।
জানা গেছে, ফ্লাইটের কোন যাত্রীর কভিড-১৯ টেস্ট করা হয়নি। হোম অফিস বলেছে বিদায়ের আগে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী ফেরত পাঠানো লোকজনকে দেখেন এবং এক্ষেত্রে কারোর শরীরে উপসর্গ দেখা গেলে তাকে ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেয়া ও সুরক্ষামূলক আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা ছিলো।
লেবার পার্টির এমপি ডায়ানে এব্বোট বলেন, বিষয়টা হচ্ছে এমন যে, সরকারের কাছে জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিষ্ঠুর অভিবাসন অনুশীলন বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
‘বেইল ফর ইমিগ্রেশন ডিটেইনীজ’ এর পরিচালক সেলিয়া ক্লার্ক বলেন, জীবন রক্ষা ও এনএইচএস সুরক্ষার জন্য যখন আমাদের সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন হোম অফিস নিরবে লোকজনকে আটককরণ ও বহিষ্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ব্যয়ের সংশ্লিষ্ট অংক বিস্ময়কর। এক্ষেত্রে তিনি অবৈধভাবে আটককৃত ব্যক্তিদের প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের অংকটির দিকেও ইংগিত করেন।
বিষয়টি বিবেচনা করে অনেকে এই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিদেশে আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের ফেরত আনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বিমান চার্টার করতে সরকার ব্যর্থ হলেও লোকজনকে বহিষ্কার করতে এতোগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন দলের এমপিদের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ লাখ ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তা দানে সরকারের তৎপরতা ছিলো ‘অত্যন্ত ধীর, যখন অন্যান্য দেশ চার্টার ফ্লাইট বুকিং করে অধিক দ্রুত কাজ করেছে।’
ডিটেনশন অ্যাকশন-এর পরিচালক বেলা স্যাংকি বলেন, হোম অফিস অনিরাপদ ও খারাপভাবে বলপূর্বক বহিষ্কারের কাজে করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় করছে। তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যায় ও ব্যয়বহুল নির্বাসন নীতির জরুরী সংস্কারের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button