নিকাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল ডেনমার্ক

thousands-march-against-veil-ban-in-denmarkডেনমার্কে উন্মুক্ত স্থানে মুসলিম নারীদের মুখমণ্ডল আবৃত করে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পাস করা আইন গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। নিকাব বা বোরকার ওপর আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারীকে ১০০০ ক্রোনার (১৫৬ ডলার) জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া, কেউ বারবার এ আইন লঙ্ঘন করলে তার জন্য ১০,০০০ ক্রোনার (১,৫৬০ ডলার) জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিষেধাজ্ঞাকে নারীর অধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে আইনটির সমর্থকরা দাবি করছেন, এর ফলে ডেনমার্কের সমাজে মুসলিম অভিবাসী নারীদের মিশে যেতে সুবিধা হবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিবাদে বুধবারই রাজধানী কোপেনহেগেনে শত শত মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নিকাব পরিহিত অনেক নারী ছিলেন। দেশটিতে বিতর্কিত এই আইনের বিরোধিতা করছে ‘পার্টি রিবেলস’ নামে একটি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ। এই গ্রুপেরই একজন সক্রিয় কর্মী সাশা অ্যান্ডারসন একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক আইন চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভের ডাক দেন।
২১ বছর বয়সী সাবিনার লক্ষ্য একজন ভালো শিক্ষক হওয়া। এ লক্ষ্যেই তিনি এখন পড়াশোনা করছেন। আরো অনেক মেয়ের সাথে তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। নারীদের নিজস্ব পদ্ধতিতেই তাদের পরিচিতি প্রকাশ করতে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন তিনি।
এ সম্পর্কে ডেনমার্কের বেলিংস্কে পত্রিকা একজন মুসলিম নারীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নেকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তিনি দেশটির আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। ৩০ বছর বয়সি ওই নারী তুর্কি বংশোদ্ভূত হলেও তিনি ডেনমার্কে জন্মগ্রহণ করে ওই দেশেই বড় হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি ডেনমার্কের মুসলমানরা অন্য নাগরিকদের সমান অধিকার ভোগ করতে পারছে না। এটি এদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়।”
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোতে নিকাব নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেনমার্কের আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close