ব্রিটেনের হাজারো টিনএজ গার্ল গ্যাং রেইপের শিকার

Rapeসৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: ব্রিটেনের হাজার হাজার নারী আর বিশেষ করে টিন-এজ গার্লসরা গ্যাং রেইপের শিকার, গ্যাংদের ড্রাগস, অস্র বহনকারী হিসেবে অনায়াসেই ব্যবহ্নত হচ্ছে। টিন-এজ এই গার্লসরা বরং শুধু মেইল গ্যাঙদের দ্বারা ব্যবহ্নত হচ্ছেনা, নারী গ্যাঙদের দ্বারা প্রতারিত ও প্রোটেকটেড হয়ে মেইল গ্যাংদের দ্বারা এই সব ধর্ষন অপকর্ম সাধিত হচ্ছে অবলীলায়। যার সামান্যই পুলিশ ও বিভিন্ন এজেন্সির কাছে রিপোর্ট হচ্ছে। এরকম চাঞ্চ্যলকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস-সিএসজে।
সিএসজে তাদের রিপোর্টে বলছে, গ্যাংদের দ্বারা এই টিনএজদের ধর্ষন যেন স্বাভাবিক এক জীবন মনে করা হচ্ছে। সিএসজের থিংক ট্যাংক হিসেবে খ্যাত ওয়ার্ক এন্ড পেনশন সেক্রেটারি ইয়ান ডনকান স্মিথ বলেন, গ্যাং কালচার নিয়ে খুব সামান্যই উন্নতি হয়েছে, যদিও তিন বছর আগে এই গ্যাং কালচার আইডেন্টিফাই করা হয়েছিলো। সিএসজে তাদের গবেষণায় পেয়েছেন ১০ বছর বয়সী মেয়ে এমনকি তারও নীচের বয়সীদের নারী গ্যাঙ্গরাই পুরুষদের সাথে সেক্স করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। তার আরো জানতে পেরেছেন, ধর্ষনকে মুলত হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে একে অন্যের প্রতিদ্বন্ধি গ্যাঙদের মধ্যে এবং নারী গ্যাং সদস্য ও তাদের লিডাররাই এই ধর্ষন-সেক্স নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
সিএসজে তাদের রিসার্চে এমন এক ভয়াবহ তথ্য আবিষ্কার করেছে, যা পেয়ে তারা নিজেরাও হতবাক হয়ে গেছেন। গত বছর এক স্কুল গার্লকে অপহরণ করে নয় সদস্যের পুরুষ গ্যাং দ্বারা ক্রমাগত ধর্ষন করেছিলো, কারণ মেয়েটির অপরাধ ছিলো সে ঐ গ্যাং নারীদের সমালোচনা করেছিলো। শুধু কি তাই, এই নারী গ্যাং সদস্যরা আট বছরের বয়সী স্কুল ছাত্রীদের তাদের অস্র ও ড্রাগস পরিবহনে ব্যবহার করে চলছে, কারণ তারা মনে করছে এবং বাস্তবেও তাই, পুলিশের চোখ সহজেই এই শিশুটি ফাকি দিতে সক্ষম সকলের সম্মুখে। কেননা পুলিশ এই আট বছর বয়সী মেয়েকে সন্দেহ করে স্টপ বা সার্চ করবেনা। সিএসজে তাদের রিপোর্টে আরো ভয়াবহ এক চিত্র তুলে ধরেছে আর তা হলো স্কুলের হেড টিচাররা এই টিনএজ গ্যাং কালচার নিয়ে জানা সত্বেও নিজ স্কুলের রেপুটেশনের কথা চিন্তা করে এ ক্ষেত্রে থাকেন অন্ধ এবং নীরব। পুলিশী ঝামেলা চলেন এড়িয়ে।
সিএসজের ডেপুটি পলিসি ডাইরেক্টর এডওয়ার্ড বয়েড রিপোর্ট উপস্থাপনকালে বলেন, আমরা সচরাচরই এই টিনএজ ও নারী গ্যাং কালচার একেবারে না দেখা অবস্থানে রয়ে গেছি কিংবা আমাদের সকলের নজরের বাইরে রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, যেখানে মিডিয়া ফলাও করে পুরুষ গ্যাং বা ক্রিমিনালদের এক্টিভিটি হাইলাইট করে প্রকাশ করে আসছে, অথচ মিডিয়ার অলক্ষ্যে এই টিনএজ গ্যাং কালচার রয়ে গেছে। এই টিনএজেরা প্যারালাল এক ওয়ার্ল্ডে বসবাস করছে, যেখানে ধর্ষণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদেরকে দিয়ে সহজেই ড্রাগস সহ অস্র বহন করানো হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১১ সালে সরকার গ্যাং কালচার আইডেন্টিফাই করতে সক্ষম হলেও এই টিনএজ গ্যাং, নারী গ্যাং এবং টিনএজদের ধর্ষণ করে তাদেরকে অসামাজিক ও বেআইনি কাজে বাধ্য করা হচ্ছে- এমন তথ্য সরকারের কাছে ছিলোনা। যেকারণে বিগত তিন বছরে এ ব্যাপারে খুব সামান্যই কাজ হয়েছে।
সেজন্যেই ইয়ান ডানকান বলছেন, সরকারকে এখনি রোড ম্যাপ ঠিক করে এ ব্যাপারে ইন্টারভ্যানশন করতে হবে। সিএসজে হাসপাতালের জরুরী ট্রমা চিকিতসা কেন্দ্রের স্থলেও এই গ্যাং কালচারের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। এক রিপোর্টের মতে ২,৫০০ শিশু ও নারী এই গ্যাঙদের দ্বারা ধর্ষনের শিকার অবস্থায় আছে, যদিও এমন তথ্য সম্পর্কে যথেষ্ট নিশ্চয়তা দেয়া যায়না, কেননা এখনো অনেক তথ্যই রয়ে গেছে রিপোর্টের বাইরে। তাই ধারণা করা হচ্ছে এ সংখ্যা আরো অনেক গুণ বেশী হবে।
চ্যারিটি এক্সএলপির চীফ প্যাটরিক রিগ্যান বলেন, ভয়াবহতম এই নারী গ্যাং এবং টিনএজ রেইপের মতো কালচার সম্পর্কে পুরো চিত্র এখনো আমরা জানিনা, আর এই না জানাটাই হচ্ছে সব চাইতে বড় সমস্যা।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button