মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত’র উদ্যোগে লন্ডনে বিরাট সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
মিথ্যা নবুওত ও ইসলাম বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঈমানী জাগরণ সৃষ্টি আমাদের উপর গুরু দায়িত্ব: মাওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদী
লন্ডনে উলামায়ে কেরামের সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ মিলনায়তনে এক ঐতিহাসিক খতমে নবুওত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেল সাড়ে ছয় ঘটিকা থেকে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও সুধী বৃন্দ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ভারত থেকে আগত হযরত মাদানী পরিবারের সূর্যসন্তান, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদী।
মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রারম্ভিক ও স্বাগত বক্তব্য দেন মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন ব্রাডফোর্ড থেকে আগত, ইংলিশ স্পিকার মাওলানা মুফতি সাইফুদ্দীন নেসার, হেফাজতে ইসলাম ইউকের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মনোহরপূরী, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ, ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ প্রমুখ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ আলী,মাওলানা শাহনূর মিয়া, মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা হাফিজ মাসূম আহমদ সহ প্রচুর সংখ্যক উলামায়ে কেরাম, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধী জন।
সভায় বক্তাগন তাঁদের দলীল ভিত্তিক আলোচনায় বলেন, ইতিহাসের পাতায় তাকালে আমরা দেখতে পাই, যুগে যুগে যারাই নবুওয়তের দাবিদার হয়েছে, তারা নিজেদেরকে মুসলমানরূপে প্রকাশ করে স্বীয় দাবি প্রচারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদি এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত হওয়ায় যখনই নবুওয়তের কোনো ভন্ড দাবিদার আত্মপ্রকাশ করেছে, তাকে কাফের সাব্যস্ত করেছে এবং ইসলামের গন্ডি থেকে বহিষ্কার করেছে। নববি যুগ থেকে যখনই কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে বা ইসলামি আদালতে এ ধরনের মামলা উপস্থিত হয়েছে, তখনই বিচারকগণ তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রকার দলিল-প্রমাণ তলব না করে তার ব্যাপারে কাফের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন- আসওয়াদ আনাসি, তুলাইহা, সাজাহ, হারেস।
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাদের কুফুরির ফয়সালা দেওয়ার পূর্বে কখনও নবুওয়তের দাবির ব্যাপারে তাদের থেকে কোনো প্রকার দলিলও তলব করেননি। যখনই কারো পক্ষ থেকে নবুওয়তের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কাফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, খতমে নবুওয়তের আকিদা এতোটাই স্পষ্ট ও সর্বজন স্বীকৃত, এর খেলাফ যুক্তি-তর্ক সব প্রতারণার শামিল। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) উম্মতকে পূর্বেই অবগত করে গেছেন। যদি এ ধরনের সামান্য অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে তাওহিদ-আখেরাতসহ ইসলামের কোনো আকিদাই আর নিরাপদ থাকবে না। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেও কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু হওয়ার ঘোষণা অবিলম্বে দেয়া উচিত। সভায় বক্তাগন নতুন জেনারেশনের মধ্যে নবীজীর খতমে নবুওতের সর্ববাদী সম্মত আকিদা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত লন্ডন এর উদ্যোগে আগামী দিনে আরো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পরিশেষে প্রধান অতিথির দোয়ার মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি হয়।



