নতুন কর আইনের হেনস্থা এড়াতে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের হিড়িক !

USআমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে পাঁচ গুণের বেশি অভিবাসী মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। গত বছর মোট ১৮৯ ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ করলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩১ জনে। আমেরিকার ফেডারেল রেজিস্টার এ তালিকা তৈরি করেছে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের হিড়িকের কারণ এতে ব্যাখ্যা করা হয়নি। অবশ্য, আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর আমেরিকার নতুন কর আইনকে অভিবাসীদের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব ত্যাগের হিড়িকের কারণ হিসেবে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের ধারণা, নতুন আইনের কর সংক্রান্ত হেনস্থা এড়াতেই অনেকে আমেরিকার নাগরিকত্ব ত্যাগ করাকে শ্রেয় বলে মেনে নিয়েছেন। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর মার্কিন ফরেইন অ্যাকাউন্টস ট্যাক্স কমপাইলেন্স অ্যাক্ট (ফ্যাটকা) অনুযায়ী বিশ্বের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন নাগরিকদের আয় ও সম্পদের তথ্য দেশটির ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)কে জানাতে হবে। এ আইন অনুযায়ী যে সব মার্কিন নাগরিকের সম্পদ বা আয়ের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার হবে তাদের তথ্যই কেবল আইআরএস’কে দিতে হবে। বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদেরও কর দিতে হয়। বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আনুমানিক ১০ হাজার কোটি বা একশ’ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ কর আদায়ের লক্ষ্যে নতুন এ আইন কার্যকর করা হচ্ছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি মার্কিন এ আইন অমান্য করে তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩০ শতাংশ সুদ ও লভ্যাংশ আটকে দিতে পারবে আমেরিকা। বিদেশে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিক বসবাস করেন এবং তাদের জন্য এ আইন এখন প্রায় দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া, বিত্তশালী নয় এমন ব্যক্তিদের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করেছে এ আইন। একদিকে কর সংক্রান্ত ফর্ম পূরণ করা একটি জটিল কাজ। সেই সঙ্গে কর সংক্রান্ত কাজে বর্তমানে আইনজীবীদের পেছনে বছরে ২ হাজার ডলার খরচ করতে হলেও এখন তা বেড়ে এক লাফে ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এদিকে, ঝামেলা এড়াতে ব্যাংকসহ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা মার্কিন নাগরিকদের এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করেছে।
সব মিলে বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের অনেকের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব মোহনীয় সোনার হরিণের পরিবর্তে মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার নতুন উত্স হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Back to top button
Close