রোহিঙ্গা সংকটের বর্ষপূর্তি একটি লজ্জাজনক মাইলফলক

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, “মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছায় ঘরে ফেরার বিষয়টি উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।“

রোহিঙ্গা সংকটের বর্ষপূর্তিতে শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “একবছর হল লাখ লাখ রোহিঙ্গা পরিকল্পিত হামলার মুখে পালিয়ে এখনো বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অমানবিকভাবে বসবাস করছে। পাশাপাশি তাদের নির্যাতনকারী মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছায় ঘরে ফেরার বিষয়টি উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।”

রোহিঙ্গা সঙ্কটের বর্ষপূর্তিকে লজ্জাজনক আখ্যায়িত করে অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বিবৃতিতে বলেন, “এই বর্ষপূর্তি লজ্জাজনক একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মানবতাবিরোধী সেইসব অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিপদজনক যে বার্তা দিয়েছে, তা হল মিয়ারমারের সেনাবাহিনী শুধু দায়মুক্তিই ভোগ করবে না, তারা আবারও এ ধরনের নৃশংসতা চালাতে পারবে। আমাদের অবশ্যই আর এমন ঘটনা ঘটতে দেয়া উচিত হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও সেখানে স্থলমাইনও ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জোরপূর্বক অনাহারে রাখা এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাও সেখানে ঘটানো হয়েছে।”

তিরানা হাসান বলেন, “রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘুদের জন্য সুবিচার নিশ্চিতের পথ তৈরি করতে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ও সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কঠোর এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে পুরো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জানানো। এ ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকি কোনো অজুহাত হতে পারে না।”
কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না মিয়ানমার। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে কথিত হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দমন-পীড়নের মুখে ওই বছরের ২৫ অগাস্ট থেকে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়। এরপর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যা এখনো চলছে।

মিয়ানমারের বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। তবে মিয়ানমার সরকার তা অস্বীকার করে বলে আসছে, ‘সন্ত্রাসীদের বিরদ্ধে’ ওই অভিযান চালানো হয়েছে।
রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনী কিভাবে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ চালিয়েছে তারও ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে অ্যামনেস্টি। গত জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে (উই উইল ডেস্ট্রয় এভরিথিং) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দমন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ১২ জনের নাম উঠে আসে। এদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লায়িং রয়েছেন। সংগঠনটি এদেরকে আটক করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে তাদেরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাজির করা এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য তাদের অপরাধের তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি খুঁজে বের করার সুপারিশ করেছে অ্যামনেস্টি। -পার্স টুডে

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button