পাকিস্তান কি যুদ্ধে না জড়িয়ে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে পারবে?

ইয়েমেনের হুথিরা কয়েক বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি ঘটিয়েছে লোহিত সাগর উপকূলে। সেটা ঘটিয়েছে বাব আল-মান্দেবের কাছে গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করে এবং মোকহার দিকে এগিয়ে গিয়ে, যা দ্বিতীয় দশকে থাকা একটি গৃহযুদ্ধকে আবার প্রজ্বলিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা সদ্য স্বাক্ষরিত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বাস্তব পরীক্ষা সামনে এনেছে , চুক্তির কালি শুকানোর এক মাসের মধ্যেই।
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট আল-সাফা প্রাসাদে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মাধ্যমে। এর কেন্দ্রীয় ধারাটি স্পষ্ট: এক সদস্যের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য সবসময় জোর দিয়ে বলেছে যে এই ব্যবস্থাটি যুদ্ধের আমন্ত্রণ নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। এই পার্থক্যটা আগে ছিল ভাষার ব্যাপার। এখন আর তা নেই। এখন ইসলামাবাদকে কার্যত দেখাতে বলা হচ্ছে যে, এই শব্দগুলোর আসল মানে কী।
একটি সংকট যা ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে:
যা ইয়েমেনের গল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল, এখন আর তা নেই। গত দুই সপ্তাহে হুথিদের অগ্রযাত্রার জবাবে সৌদি আরব পাঁচ দিনে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে এবং তার ভূখণ্ডে অব্যাহত হামলার বিরুদ্ধে “কঠোর” জবাবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশে মানবিক মূল্য পরিশোধ বেড়েই চলেছে। জাতিসংঘ বলছে, ১ লাখ ২৫ হাজার ইয়েমেনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে এবং শুধু ৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ১৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আর এই অস্থিরতা বৃহত্তর পরিসরে সৌদি তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
তারপর, ১৬ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট মক্কার দিকে ধেয়ে আসা একটি হুথি ড্রোনকে বাধা দিয়ে ভূপাতিত করে — শহরটির প্রতীকী গুরুত্বের কারণে রিয়াদ ধরনের লক্ষ্যকে একটি চরম রেড লাইন হিসেবে দেখে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া দ্রুত আসে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ চুক্তির অধীনে তার “দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত”, এবং স্পষ্টভাবে যোগ করেন: “মক্কা চুক্তি আমাদের জন্য প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।”
পাকিস্তান আসলে কী করেছে এবং কী এখনো হয়নি:
এখানেই বলা এবং করার মধ্যে ফাঁকটাই আসল গল্প হয়ে দাঁড়ায়। এটি ঠিক সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে, যা এই লেখাটি উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে।
আসিফের কঠোর ভাষা সত্ত্বেও, পাকিস্তান সামরিকভাবে চুক্তি সক্রিয় করার দিকে যায়নি। ১০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে যে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছে না এবং আপাতত তাদের পন্থা মূলত কূটনৈতিকই থাকবে। ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তুর্কি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলছিলেন যে, রিয়াদ চুক্তির অধীনে সাহায্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধই করেনি, যদিও সৌদি আরব চুপচাপ অন্য দিকে তাকাচ্ছে।
ওমান এবং মিশরই এই মুহূর্তে বেশিরভাগ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, কর্মকর্তারা রিয়াদের অবস্থানকে আরও সরাসরি কিছু করার আগে “কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়া” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তুরস্কেরও ধীরে চলার নিজস্ব অজুহাত আছে: তার পার্লামেন্ট অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তিটি অনুমোদন নাও করতে পারে, যা আঙ্কারা আসলে কী করতে চায় তা নির্বিশেষে চুক্তিটিকে অনিশ্চয়তায় রেখেছে।
এগুলোর কোনোটিই বিনামূল্যে নয়। সৌদি আরব অন্য অংশীদারদের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছে। জানা গেছে, এমবিএস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুথিদের ওপর মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছেন। জবাবে ট্রাম্প ‘না’ বলেছেন। এর পরিবর্তে গোয়েন্দা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। রিয়াদ ইসরায়েল ও ব্রিটেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এর কারণ মূলত কারণ, তার মক্কা অংশীদাররা এগিয়ে আসেনি।
স্টিভেন এ. কুকসহ বিশ্লেষকরা প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সামরিকভাবে কিছু না হওয়ার কারণেই কি চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যা আসল সমস্যার মূল: ইসলামাবাদের দিক থেকে যা বিচক্ষণ সংযম বলে মনে হচ্ছে, রিয়াদের দিক থেকে তা একা ফেলে রাখার মতো দেখাতে পারে।
প্রতিরক্ষামূলক সমর্থন আসলে কেমন দেখাচ্ছে:
পাকিস্তান কিছুই করেনি বললে ভুল হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে পাকিস্তানের ইতিমধ্যেই প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার বিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সৈন্য সৌদি আরবে মোতায়েন রয়েছে, যা বর্তমান সংকটের আগের বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে।
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগে রয়েছেন, পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও। ইসলামাবাদ সেই চ্যানেলটি ব্যবহার করে তেহরানকে হুথিদের লাগাম টানতে চাপ দিচ্ছে, একই সঙ্গে ইরানকে রিয়াদের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। চুপচাপ, এই কূটনৈতিক লাইনটি এই মুহূর্তে যেকোনো সৈন্য মোতায়েনের চেয়ে বেশি কার্যকর কাজ করছে।
এটাই আসলে সেই পার্থক্য যা পাকিস্তান বাস্তবে করছে বলে মনে হচ্ছে, মুখে বলা হোক বা না হোক: বিমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং সৌদি ভূখণ্ডে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ইয়েমেনের ভেতরে আক্রমণাত্মক হামলায় যোগ দেওয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিভাগের। মক্কা চুক্তির নিজস্ব ঘোষিত লক্ষ্য — সম্মিলিত প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা — পরেরটি দাবি না করেই প্রথমটিকে সমর্থন করে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে কঠিন ভারসাম্য রক্ষা:
এগুলোর কোনোটিই শুধু সামরিক পরিকল্পনা দিয়ে সমাধান করার মতো সমস্যা নয়। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সত্যিই গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। এটি ইরানের ঠিক পাশেই অবস্থিত এবং সেই সম্পর্ককে কার্যকর রাখার জন্য দেশটি বছরের পর বছর চেষ্টা করেছে। ইয়েমেনকে সৌদি-ইরান পূর্ণ মাত্রার সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে দেখার কোনো আগ্রহই তার নেই। ঠিক এই কারণেই মুনির-আরাগচির ব্যাকচ্যানেলটি মাঠে যা ঘটছে তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের অবস্থানও নজরে রাখা দরকার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, চীনা কর্মকর্তারা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুথি হামলা লাগাম টানতে ইরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন, সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এটি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষতি করতে পারে। চীনা বাণিজ্যের কতটা এই দুটি চোকপয়েন্টের মধ্য দিয়ে যায় তা বিবেচনা করলে, এটি একটি নজির, যা বেইজিং সহজেই আবার টানতে পারে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্প্রীতি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে বেইজিং এই ধরনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
প্রণোদনাগুলো পাশাপাশি রাখলে সেগুলো সুন্দরভাবে মেলে না, কিন্তু যুদ্ধের দিকেও নির্দেশ করে না। সৌদি আরব তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে চায়। চীন চায় বাণিজ্য রুট সচল থাকুক। পাকিস্তান চায় ইরানের সঙ্গে নতুন ফ্রন্ট না খুলে সৌদি অংশীদারিত্বকে সম্মান করতে। তুরস্ক আরও আঞ্চলিক ওজন চায়, যদিও তার নিজস্ব পার্লামেন্ট আপাতত তা আটকে রেখেছে।
বিভিন্ন লক্ষ্য নিশ্চিতভাবেই আছে কিন্তু ইতিমধ্যে চলমান কূটনীতি, ওমান ও মিশরের মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে মুনির-আরাগচি যোগাযোগ পর্যন্ত এই ইঙ্গিতই দেয় যে, সবাই বর্তমানে এটিকে সেভাবেই রাখতে পছন্দ করছে।
আরব সাগর সংযোগ:
এই সবকিছুর মধ্যে একটি পাকিস্তানি দিক রয়েছে যা খুব কমই উল্লেখ করা হয়। বাব আল-মান্দেব শেষ পর্যন্ত আরব সাগরে গিয়ে মেশে, যার অর্থ করাচি, গোয়াদর এবং পাকিস্তানের নিজস্ব সামুদ্রিক পশ্চাদভূমি ইয়েমেনের সংকট থেকে যতটা দূরে মনে হয় ততটা দূরে নয়। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল দীর্ঘায়িতভাবে বন্ধ থাকলে মালবাহী খরচ এবং বীমা প্রিমিয়াম বেড়ে যায় এবং বাণিজ্যকে বিকল্প রুটের দিকে ঠেলে দিতে পারে — এমন একটি গতিশীলতা যা সিপিইসির জন্য উভয় দিকেই কাজ করে, গোয়াদরের কৌশলগত আবেদন বাড়িয়ে তোলে, আবার একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যে ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ করে তাও বাড়িয়ে দেয়।
ইয়েমেনে প্রবেশের বিপদ:
ইসলামাবাদের জন্য সত্যিকারের কঠিন সিদ্ধান্ত তখনই আসবে যদি রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে ইয়েমেনের মাটিতে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দিতে বলে — এবং এই লেখা পর্যন্ত, সেই অনুরোধ আসেনি। এটি ইতিমধ্যে থাকা প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার প্রতিশ্রুতি হবে। ইয়েমেনের ভেতরে পাকিস্তানের যুদ্ধে জড়ানো প্রতিশোধের ঝুঁকি তৈরি করবে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল করবে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দেবে এবং যা বর্তমানে একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, তাকে একটি অন্তহীন যুদ্ধের পক্ষে পরিণত করবে — ঠিক এই মুহূর্তে পাকিস্তান যে কূটনৈতিক সেতুর ভূমিকা বেশ ভালোভাবে পালন করছে, তা নস্যাৎ করে দেবে।
তিনটি জিনিস আলাদা এবং স্পষ্টভাবে বলা দরকার যা হচ্ছে, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা ও চুক্তির সদস্যদের ওপর হামলা প্রতিরোধ এবং ইয়েমেনের ভেতরে আক্রমণাত্মকভাবে যুদ্ধ করা। পাকিস্তান এখন প্রথম দুটি করছে। তৃতীয়টি অনেক বড় এবং ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত এবং রিয়াদ এখনো ইসলামাবাদকে তা করতে বলেনি।
আসল পরীক্ষা, যা এখনো চলছে:
মক্কা চুক্তির আসল পরীক্ষা কখনোই এমন ছিলো না যে পাকিস্তানি বুট ইয়েমেনের মাটিতে যাবে কি না। এটি এখন বাস্তবে নির্ধারিত হচ্ছে চুক্তিটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে কি না। প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে কিনা ইতিমধ্যে সেখানে থাকা স্কোয়াড্রনগুলো ও বিমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে এবং ইরানের ওপর প্রয়োগ করা কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে। আর এসব করতে অনিচ্ছুক এমন একটি যুদ্ধে পাকিস্তানকে সরাসরি টেনে না নিয়ে।
এ পর্যন্ত, ইসলামাবাদ হস্তক্ষেপের চেয়ে সংযমকেই বেছে নিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির দিক থেকে দেখলে, এটি শৃঙ্খলা বলে মনে হয়: সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা, চুক্তির সদস্যদের ওপর হামলা প্রতিরোধ করা এবং ইয়েমেনের ভেতরে যুদ্ধ করার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা রাখা এবং তিনটিকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে অস্বীকার করা। রিয়াদের দিক থেকে দেখলে, দীর্ঘ বছরের মধ্যে তার সবচেয়ে খারাপ নিরাপত্তা সংকটের মাঝে এবং ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও লন্ডনে ফোন করে কাজ চালানোর সময়, যখন তার নিজের চুক্তির অংশীদাররা চুপ থাকে, সেই একই সংযমকে খুব ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে। যা শৃঙ্খলার চেয়ে অনুপস্থিতির কাছাকাছি।
এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে স্টিভেন এ. কুক এবং অন্যরা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে প্রশ্নটি তুলছেন। একই সংযম কীভাবে দেখা হচ্ছে তার মধ্যে এই ফাঁক — ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যা ঘটছে তার চেয়ে বেশি — শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে যে মক্কা চুক্তিকে কীভাবে মনে রাখা হবে: সেই মুহূর্ত হিসেবে যখন পাকিস্তান একটি গুরুতর আঞ্চলিক নিরাপত্তা গ্যারান্টর হিসেবে বেড়ে উঠল, নাকি এমন একটি চুক্তি হিসেবে যা কাগজে শক্ত মনে হয়েছিল এবং প্রথম পরীক্ষার সময়ই হালকা প্রমাণিত হয়েছিল।
পাকিস্তানের এখনো সেই ফাঁক বন্ধ করার সুযোগ আছে — তেহরানের সঙ্গে ইতিমধ্যে খোলা কূটনৈতিক চ্যানেল সমূহের দ্বারা এবং রিয়াদের সঙ্গে দৃশ্যমান সমন্বয়ের মাধ্যমে, যা যুদ্ধের বাইরে থাকে। এছাড়া সে তা পারে “দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত” থেকে এবং আসলে যখন গুরুত্বপূর্ণ তখন এর মানে কী তা আরও স্পষ্ট করে বলার মাধ্যমে। যা সে বহন করতে পারে না তা হলো এমন একটি উত্তরের জায়গায় নীরব থাকা, যা সে কখনো করতে চায়নি। -মানসুর কায়সার, ইসলামাবাদভিত্তিক একজন স্বাধীন লেখক। তিনি পাকিস্তান ও অঞ্চলকে প্রভাবিত করা পররাষ্ট্রনীতি, জননীতি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন।

[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button