ইসরায়েল-গ্রিস-সাইপ্রাস জোট নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক জোট নিয়ে অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো উদ্বিগ্ন। ফিদান বলেন, গ্রিস এই জোটে যোগ দিয়েছে, যদিও দেশটি ন্যাটো’র সদস্য। তিনি দক্ষিণ তুরস্কে অনুষ্ঠিত ‘আনাতোলিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম’-এ বলেন, “এই উদ্যোগটি আমাদের বিরুদ্ধে নয়—এমন কোনো নিশ্চয়তা আমাদেরকে জোট গঠনের আগে বা পরে কেউ দেয়নি।”
তিনি গত বছর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ও সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেছিলেন: “যারা কল্পনা করছে তারা আবার তাদের সাম্রাজ্য ও আমাদের ভূমির ওপর আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তাদের আমি বলছি: এটা ভুলে যান। এটা কখনোই হবে না। এমন চিন্তাও করবেন না।” এটি স্পষ্টতই তুরস্ককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল।
২০১০-এর দশকের শুরু থেকে গড়ে ওঠা ইসরাইল-গ্রিস- সাইপ্রাস জোটের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে, যেমন যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান।
গত সপ্তাহে ফিদান বলেছিলেন, এই জোটের উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ দিক থেকে তুরস্ককে ঘিরে ফেলা যা আরও সমস্যা তৈরি করছে ও যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এথেন্স এসব মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ইসরায়েল ও সাইপ্রাসের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা শান্তিপূর্ণ এবং কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। ফিদান আরও বলেন, “এই ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার স্পষ্ট সামরিক দিক রয়েছে।”
তিনি বলেন,“গ্রিস যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু চিত্রটি পরিষ্কার। ইউরোপে আর কোনো দেশ নেই যারা এ ধরনের সামরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়েছে।”
তিনি বলেন, “এই জোট শুধু তুরস্ক নয়, বরং অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ। যদিও তারা প্রকাশ্যে তা বলছে না কিন্তু ইসরায়েল সম্প্রতি সম্প্রসারণবাদী নীতি অনুসরণ করছে এবং তুরস্কের উদ্বেগ অমূলক নয়”।
এদিকে তুরস্ক আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
ফিদান বলেন, এই উদ্যোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি ইসরায়েল-গ্রিস-সাইপ্রাস সহযোগিতার মতো কোনো সামরিক জোটও নয়।
তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলের মতো নই। তারা মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে সামরিক জোট গড়েছে।”
“আমরা, ইসরায়েলের বিপরীতে, অঞ্চলের সংঘাত শেষ করতে এবং স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করি।”
ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের একটি সংবাদপত্র জানায়, নিকোশিয়া ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনার মধ্যে জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তি বোধ করছে এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লাভের জন্য পরিস্থিতি উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এ বিষয়ে অবগত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা তখন বলেন, সাইপ্রাস সত্যিই ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল।
তিনি বলেন, “এটা ইসরায়েলের পুরোনো কৌশল—নিজেদের জনগণের উদ্দেশ্যে বড় বড় কথা বলা, বাস্তবতা উপেক্ষা করা এবং নিজেদের বয়ান চাপিয়ে দেওয়া।”
সাইপ্রাসের সংবাদপত্র পলিটিস আরও জানায়, ইসরায়েল থেকে “নির্বাচিত ও লক্ষ্যভিত্তিক তথ্য ফাঁস” করা হচ্ছিল, যেখানে ইসরায়েল ও গ্রিসের ১,০০০ জন করে এবং সাইপ্রাসের ৫০০ জন সেনা নিয়ে একটি যৌথ ব্রিগেড গঠনের কথা বলা হয়, যা নিকোশিয়াকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ডিসেম্বরে ভ্যাসিলিস পালমাস এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে বলেন, যৌথ সামরিক বাহিনী গঠনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এ বছরের শুরুতে এক জ্যেষ্ঠ গ্রিক কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের কাছে এমন বাহিনীর অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। -রাগিপ সোইলু, মিডল ইস্ট আই (MEE)-এর তুরস্ক ব্যুরো প্রধান এবং তিনি আঙ্কারাভিত্তিক সাংবাদিক। এর আগে তিনি তুর্কি গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ ও এটিভির জন্য ওয়াশিংটন ডিসি এবং লন্ডন থেকে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি সিএনএন ও ফরেন পলিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।
[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে‘র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]



