মাদরাসায় বিস্ফোরণ ও মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম মাদরাসায় রহস্যজনক বিস্ফোরণ এবং মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ হাটহাজারী শাখা। মিছিলটি হাটহাজারী সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো চত্বরে এসে প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে শেষ হয়।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী পৌরসভার সভাপতি মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালখান বাজার মাদরাসায় বিস্ফোরণের যে ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো নাটক। ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের সহায়ক ক্ষমতাসীন মহল দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসের ধারক-বাহক প্রচারে ব্রত দেশের কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। তারা কখনও বোমাবাজির নাটক সাজানোর প্রয়াস চালাচ্ছে, কখনও কথিত জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় গত কিছুদিন আগে প্রকাশ্যেই কওমি মাদরাসা বন্ধের হুমকি দিয়েছে। লালখান বাজার মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা কওমি মাদরাসা বন্ধের ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
বক্তারা আরও বলেন, যেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আইপিএসের ব্যাটারি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রহস্যজনক বিস্ফোরণের পরপরই মাদরাসাবিরোধী স্লোগান দিয়ে ব্যানারসহ মিছিল বের করা হয়। এটা যে সম্পূর্ণ সাজানো নাটক—এ থেকেই তা বোঝা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই তারা ব্যানার পেল কোথায়?
তারা বলেন, সরকারের জুলুম-নির্যাতনবিরোধী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হেফাজত নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলামের হাতকে দুর্বল করার জন্যই এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয়েছে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসাবিরোধী ষড়যন্ত্রেরও এটা এক বিরাট অংশ।
হেফাজত নেতা মাওলানা মীর ইদরিস বলেন, হেফাজতের ঈমানি আন্দোলনকে স্তব্ধ করার হীনউদ্দেশ্যে সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন সংসদে পাস করতে চলেছে। এর পথে হেফাজতে ইসলাম বড় বাধা। হেফাজতের সংগ্রামী নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলামকে নিষ্ক্রিয় করার জন্যই তার মাদরাসায় বিস্ফোরণ নাটক সাজানো হয়েছে। বহিরাগত ক্যাডার ও কিছু ভিন্ন ধর্মাবলম্বী পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজশে নিরীহ মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা মাদরাসা ঘিরে রাখে এবং পুলিশ মাদরাসা থেকে সব ছাত্র-শিক্ষককে বের করে দিয়ে মাদরাসা তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়। আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের হুশিয়ার করে বলতে চাই, আল্লাহ-রাসুল (সা.)-এর অবমাননা এবং ইসলাম, আলেম-উলামা ও মাদরাসাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করুন। ষড়যন্ত্র করে গণবিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না। ক্ষমতার শেষ সময়ে মাদরাসা, মসজিদ, আলেম সমাজ ও নিরীহ তৌহিদি জনতার ওপর হাত দিয়ে কেউ যেন গণরোষের বারুদে আগুন না লাগান—সেই অনুরোধ করব। আর যেসব একচোখা হলুদ মিডিয়া ইসলামবিরোধী অপপ্রচারে ইহুদিবাদের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে, আমরা তাদেরকেও সব মিথ্যাচার বন্ধ করে সত্য খবর প্রকাশের অনুরোধ করছি। অন্যথায় প্রতিবাদী তৌহিদি জনতার গণআন্দোলনে ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবার পথও খুঁজে পাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে প্রবীণ মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আল্লামা শামসুল আলম বলেন, মুফতি ওয়াক্কাসকে মুক্তি না দিয়ে সরকার এখন মুফতি ইজহার সাহেবকেও আটক করে হেফাজতের ঈমানি আন্দোলনকে নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্র করছে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসা নিয়ন্ত্রণের চক্রান্তকে আরও বেগবান করার জন্য এক ঢিলে দুই পাখী শিকারের উদ্দেশে লালখান বাজার মাদরাসায় বিস্ফোরণের কথিত নাটক সাজিয়েছে। জনগণ এসব অপপ্রচারে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আলেম-উলামা ও মাদরাসাবিরোধী এসব ষড়যন্ত্রের ফলে জনগণের মনে ধূমায়িত ক্ষোভ যে লেলিহান শিখায় পরিণত হবে, তারা সে ধারণা করতে পারছে না। লালখান বাজার মাদরাসা নিয়ে ষড়যন্ত্র এ মুহূর্তে বন্ধ না হলে ওলি-আউলিয়ার পদভারে পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের তৌহিদি জনতার বিস্ফোরিত ক্ষোভকে কেউ দমাতে পারবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতির সব দায়দায়িত্ব ক্ষমতাসীন দলকেই বহন করতে হবে। নিরীহ মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণের সাজানো নাটক ও অপপ্রচার, মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া এবং মিডিয়া সন্ত্রাস তৌহিদি জনতা চুপ করে সহ্য করবে না।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সব মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ করে অবিলম্বে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালখান বাজার মাদরাসা থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করে মাদরাসায় স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন। অন্যথায় এদেশের কোটি কোটি তৌহিদি জনতা আপনাদের ইসলামের দুশমন হিসেবেই চিহ্নিত করবে।
উল্লেখ্য, সোমবার চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদরাসার চারতলার ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলায় এক রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button