ব্রিটিশ বিমান খাতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি

নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯-এ বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বৈশ্বিক বিমান খাত। মহামারীর এ ধাক্কায় বড় হোঁচট খেয়েছে ব্রিটেনের বিমান খাতও। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে এ খাতে নজিরবিহীন প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বরিস জনসনের সরকার। কিন্তু এ সহায়তা প্যাকেজ আরো প্রসারিত ও দীর্ঘমেয়াদি না হলে এ খাতে নিয়োজিতদের ধরে রাখা কঠিন হবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সংশ্লিষ্টদের বিমান খাতে বাড়তি প্রণোদনার বিষয়টিতে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি এখনো। যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ বলছে, এ খাতে এরই মধ্যে নজিরবিহীন সহায়তা প্যাকেজ দেয়া হয়েছে। আর গ্রিনপিসের মতো পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এটিকে দূষিত খাত উল্লেখ করে বাড়তি প্রণোদনার বিষয়টিতে নিজেদের নেতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে বাড়তি প্রণোদনার বিষয়ে নিজেদের দাবির পেছনে যুক্তি তুলে ধরেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশটির এয়ারলাইনস, বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি যুক্তরাজ্যের খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী না থাকায় এবং নিষেধাজ্ঞা থাকায় এয়ারলাইনসগুলো গ্রাউন্ডেড করা আছে। বিমানবন্দরগুলোকে সক্ষমতার ন্যূনতম কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রমও। এ অবস্থায় যদি এখনই কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার-পরবর্তী সময়ে বিমান খাত পেছনে পড়ে যাবে।
তবে এডিএস গ্রুপ, এয়ারলাইনস ইউকে এবং দ্য এয়ারপোর্ট অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করে বলছে, এরই মধ্যে এ খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এয়ারবাস, বিএই সিস্টেমস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, রায়ানায়ার এবং ভার্জিন আটলান্টিকের এয়ারলাইনসগুলোর মতো সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো আশঙ্কা করে জানিয়েছে, নিকট ভবিষাতে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। এর অর্থ হলো, এ খাতের প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ার জন্য খুব বেশিদিনের জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না।
বিবিসির বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিবেদক থিও লেগেট বলেন, বিমান খাত নিয়ে যখন উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটছে, তখন সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এ খাতের জন্য আর বাড়তি কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে না। এর অর্থ হলো, এয়ারলাইনসগুলোর জন্য এরই মধ্যে যে সহায়তা প্যাকেজ দেয়া হয়েছে, সেটি দিয়েই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে তাদের।
তবে এ খাতের অনেকেই সরকারি এ সহায়তা পাওয়ার জন্য যে ধরনের মানদণ্ড থাকা দরকার, তার অনেকটাই পূরণ করতে পারবে না বলে মনে করেন থিও লেগেট। তার মনে হয়, এসব প্রতিষ্ঠান যেন সরকারি এ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে, সেজন্য এ মানদণ্ডকে আরো নমনীয় করা প্রয়োজন। যাতে করে এসব প্রতিষ্ঠানা ব্যবসা পরিচালনা করার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। কারণ রাতারাতি যেভাবে এয়ারলাইনসগুলো গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে, সেটি কিন্তু এমন রাতারাতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে না।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনের দিনে এ খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য জব রিটেনশন স্কিমের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। যার মাধ্যমে আপাতত কাজ না থাকা কর্মীদের স্বল্পকালীন বেতন পরিশোধ করা যায়। যাতে করে ছাঁটাই না করে এ খাতের কর্মীদের ধরে রাখা যায়। পাশাপাশি এ খাতের ব্যবসা কর থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তারা, যা এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি এবং খুচরা বিক্রি খাতে দেয়া হয়েছে।
তবে ব্যাপকভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের এ দাবির বিষয়টি বিবেচনায় না নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিবহন বিভাগের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য বিমান একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এজন্য এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক নজিরবিহীন প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আমরা এ খাতের সঙ্গে খুব কাছ থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং একক ফার্মের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button