পেট্রল স্টেশনের দিন কি ফুরিয়ে আসছে?

ভবিষ্যতের বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি। সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিন তেলচালিত গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত মানুষ ভাবতে বসে যায়, কোথায় আর কীভাবে চার্জ দিতে হবে এসব গাড়ি। তবে আসলে এখন চিন্তা করা উচিত পেট্রল পাম্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ যদি তেলচালিত গাড়িই না থাকে, তাহলে এসব পাম্পের কাজ কী হবে?
বিবিসির চিফ এনভায়রনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট জাস্টিন রোওয়াল্ট ধারণা করছেন, আগামী দুই দশকের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির কাছে পেট্রল স্টেশনের ব্যবসা লাটে উঠবে। এমন সময় আসবে যে সব ধরনের গাড়ির মালিকরা আসলে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। সে সময় গাড়িতে পেট্রল-ডিজেলের মতো জ্বালানি ভরার চেয়ে গাড়ি চার্জ দেয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।

পেট্রল স্টেশন নিয়ে যদি ঝুঁকি মূল্যায়ন লিখতে বলা হয়, তাহলে কী লেখা হবে তাতে? শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে সেখানে ট্যাংক বসানো হয়। এরপর সে ট্যাংক ভর্তি করা হয় মারাত্মক দাহ্য তরলে। তারপর এর ওপর শক্তিশালী পাম্প বসিয়ে সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের গাড়ির ট্যাংকগুলো তেলে পরিপূর্ণ করতে। গাড়িগুলো সেখানে আসে উত্তপ্ত ইঞ্জিন নিয়ে। তারপর সেই পাম্প মেশিনের মাধ্যমে গাড়িগুলোর ট্যাংক পূর্ণ করা হয় দাহ্য তরল দ্বারা। এজন্য গাড়ির মালিকরা অর্থ দেন এবং চলে যান। জাস্টিন রোওয়াল্ট বলেন, বিষয়টি যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা আমরা কখনো কি ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখেছি?
সে হিসাবে বিদ্যুৎকে বলা যেতে পারে সর্বব্যাপী জ্বালানি। কারণ আধুনিক সময়ে মোটামুটি সবখানেই বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। যেখানেই যায়, আশপাশে বিদ্যুতের ব্যবস্থা পাওয়া যাবেই। এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ হলো আশপাশের সেই বিদ্যুৎ কীভাবে গাড়ির ব্যাটারি পর্যন্ত এনে তাকে চার্জ করাতে হবে। যদিও এজন্য টমাস আলভা এডিসন হওয়ার প্রয়োজন নেই। আশপাশের যেকোনো পার্কিং এলাকাতেই চার্জ দেয়ার সুবিধা থাকবে। এ খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রচলন পুরোপুরি শুরু হলে আশপাশে তাকালেই চার্য দেয়ার জায়গা দেখতে পাওয়া যাবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি রিচার্জিং প্রতিষ্ঠান পড পয়েন্টের প্রতিষ্ঠাতা এরিক ফেয়ারবায়ারন বলেন, যদিও সে সময় থেকে আমরা এখনো দূরে আছি। এখনো রাস্তা চলাচলরত মোট গাড়ির মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ বৈদ্যুতিক। কিন্তু এমন দিন আসবে যখন সহজেই পাওয়া যাবে গাড়ির ব্যাটারি চার্জ করার জায়গা। তেলচালিত গাড়ির জায়গা নেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি আর সে অনুযায়ী বদলে যাবে অবকাঠামো। যখন লাখ লাখ মানুষের গাড়ির চার্জ দেয়ার প্রয়োজন হবে তখন সে অনুযায়ী তৈরি হবে চার্জিং স্টেশন। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। ঠিক যেখাবে শতাব্দীকাল আগে পৃথিবীতে পেট্রল স্টেশনগুলো তৈরি হয়েছিল।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন নতুন চার্জিং স্টেশন তৈরি হবে। যেখানেই গাড়ি পার্ক করা হবে, সেখানেই পাওয়া যাবে চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা।
এরিক ফেয়ারবায়ারন বলেন, এমন সময় আসবে যখন আপনি রাস্তার পাশে কফি পান করতে করতে বা জরুরি কাজ সারতে সারতে গাড়িতে চার্জ দিতে পারবেন। এজন্য আলাদা সময় দেয়ার প্রয়োজন হবে না। যেটি এখন গাড়িতে তেল ভরার জন্য দিতে হয়।
এরিকের একথা যদি সত্যি হয় তাহলে বিশ্বের পেট্রল পাম্পগুলোর কফিনে পেরেক ঠোকার সময় চলে এসেছে। সব মিলিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির যত প্রসার ঘটবে তত কমবে পেট্রল পাম্পগুলোর ব্যবসা। বিশ্বনেতারাও একমত হচ্ছেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার বিষয়ে। উন্নত দেশগুলোও বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে। বড় বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে একথা বলাই যায়, পেট্রল পাম্পের দিন ফুরিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button