ব্লগাররা আবার রাসূল সা:-কে কটাক্ষ করে নৈরাজ্য সৃষ্টির ইন্ধন জোগাচ্ছে

Hefazotসংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর শানে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাসসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী। সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরের একপর্যায়ে বলেন, আপনারা আমার বিরুদ্ধে লিখেন তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যাহা লিখবেন বাস্তবতার ভিত্তিতে লিখবেন। পত্রিকায় লিখা হয়েছে আমি আফগান ফেরত যোদ্ধা। তালেবান পতনের পর এ দেশে এসে তালেবানি রাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টা করছি। এগুলা ডাহা মিথ্যা। কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। আমি একবারের জন্যও আফগানিস্তান যাইনি। আমি রিমান্ডেও এগুলোর জবাব দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা মাদরাসা, মসজিদ, খানকাহর মানুষ। কিন্তু ইসলামবিরোধীরা, নবীর দুশমন ও শত্রু নাস্তিকরা যখন ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে, কথা বলবে তখন আমরা মাদরাসা খানকাহ ছেড়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হই। আমরা রাজপথে গেলে আজান দিই, নামাজ পড়ি। আর শাহবাগী ও বামপন্থীরা রাজপথে এলে নাশকতা করে।
লিখিত বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এ দেশের দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মুসলমানদের একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ঈমানী আন্দোলন। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা সংরণ, মহান আল্লাহ, তার প্রিয় রাসূল (সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ইসলামের বিধানগুলোর মর্যাদা ও মূল্যবোধ রার ইস্যুতে বিভিন্ন সময় নানা রকম আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। অনলাইন ব্লগে কিছু নাস্তিক তরুণের আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর বিরুদ্ধে জঘন্য ভাষায় কটূক্তির প্রোপটে সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে লাখ লাখ নবীপ্রেমিক জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সরকার নাস্তিক-মুরতাদ ও তাদের দোসরদের প্রশ্রয় দিতে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে বারবার রাজনৈতিকভাবে আঘাত করেছে। হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতার ধুয়া তুলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার সর্বপ্রকার অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা-বিবৃতিতে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত বলে সরকারপ্রধানসহ ক্ষমতাসীন জোটের মন্ত্রী-এমপিরা ঢালাওভাবে তিরস্কার ও তির্যক ভাষায় আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকার অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামকে বিএনপি-জামায়াতের তকমা লাগিয়ে আবারো দেশে একটি বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। অন্য দিকে আবারো কিছু নাস্তিক-মুরতাদ নতুনভাবে ব্লগে মহান আল্লাহ, বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা: সম্পর্কে জঘন্য ভাষায় নানা রকম লেখালেখি শুরু করেছে। সরকার তথ্য-প্রযুক্তি আইন করে সেই আইন একচেটিয়া ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ করে চলেছে অথচ এসব নাস্তিক-মুরতাদ অহরহ সেই আইন লঙ্গন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। লিখিত বক্তব্যে মাওলানা রুহী আরো বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান, ধর্মপ্রাণ এবং শান্তিপ্রিয়। হাতেগোনা, জনবিচ্ছিন্ন কিছু বুদ্ধিজীবী, তথাকথিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বামপন্থী রাজনীতিকদের মনোরঞ্জনের জন্য সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিপে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের জন্য এটা বড় ধরনের অদূরদর্শিতা ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবেই ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, এসব ধর্মবিদ্বেষীর সংখ্যা কত? এবং নবীপ্রেমিক মুসলমানের সংখ্যা কত? সরকার কেন গুটিয়েক লোকের কথায় রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেবে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। আমরা সরকারের প্রতিপ নই। কোনো রাজনৈতিক অভিলাষও আমাদের নেই। কিন্তু সরকারি দলের কিছু নেতা ও সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের রাজনৈতিক চরিত্র আবিষ্কারের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। হেফাজতে ইসলাম ও নবীপ্রেমিক জনতার প্রাণের দাবি ১৩ দফা সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নানাভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলে সরকার আমাদের তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করছে, যা কারও কাম্য নয়। সরকারের যদি শুভবুদ্ধির উদয় না হয়; তাহলে তারা এই হঠকারিতার মাধ্যমে নিজের পতন ডেকে আনবে।
মাওলানা রুহী বলেন, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ মুরুব্বি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে অব্যাহত কুৎসা রটনা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচারে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৮ দলের নেত্রীর ছবির সাথে তার ছবি জুড়ে দিয়ে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করে পোস্টারিং করা হচ্ছে, যা দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীসহ পুরো আলেমসমাজের সাথে চরম বেয়াদবি ও ধৃষ্টতার শামিল। এ ধরনের ন্যক্কারজনক আচরণ আলেমসমাজসহ দেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা কোনোক্রমেই বরদাশত করতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আরো বলেন, আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে যারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ইন্ধন জোগাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং নতুনভাবে গজিয়ে ওঠা নাস্তিক-ব্লগারদের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা, সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর শানে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাসসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।
কর্মসূচির মধ্যে আগামী ২৯ নভেম্বর দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। ২৮ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা, ৩০ নভেম্বর টাঙ্গাইল, ৯ ডিসেম্বর দিনাজপুর, ২০ ডিসেম্বর ফেনী এবং ২৪ ডিসেম্বরের আগে নোয়াখালী, কুমিল্লা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ, বগুড়া, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী প্রভৃতি জেলা ও বিভাগীয় শহরে শানে রেসালত মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রতি বছরের মতো ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ইসলামি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ শামসুল আলম, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, আমিরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ, অর্থসম্পাদক মাওলানা কাতেব ইলিয়াস ওসমানী, হেফাজত নেতা মাওলানা মীর ইদরিস, জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা হাফেজ ফায়সাল, মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাওলানা শোয়াইব মোরশেদ, মাওলানা এমরান ফতেহপুরী, মাওলানা জাবের হোসাইন, মাওলানা শামসুর রহমান, মাওলানা আলী আজম প্রমুখ।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button