মিশিগান প্রাথমিক নির্বাচন
ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের নভেম্বরে কংগ্রেস জিতাতে পারে
গত রাত ২টায় মিশিগান সময়ে এনবিসি ঘোষণা দিলো যে, এআইপিএসি (এইপ্যাক)-এর প্রার্থী এখন নতুন চাকরি খুঁজতে যাচ্ছে। মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের পরাজয় হলো অ্যাইপ্যাক-এর কফিনে শেষ পেরেক। একসময় ভয়ংকর ছিল যে ইসরায়েল লবি, সেটা এখন আমেরিকান জনমতের সাথে ইসরায়েলের মতোই পাথরের ন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে।
আব্দুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ৬০-১ অনুপাতে খরচ করা সত্ত্বেও স্টিভেন্স টিকে থাকতে পারেননি। ‘অ্যাইপ্যাক’ এবং তাদের ইসরায়েল-প্রথম ইহুদি কোটিপতিরা মিশিগানকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাথমিক নির্বাচনে পরিণত করেছিল। তবুও হেরে গেছে।
এক সেকেন্ডের জন্য ভাবুন: একটি রাজনৈতিক তহবিল কমিটি যে এক কংগ্রেশনাল এলাকায় কোটিপতিদের জন্য কর ছাড় চায় এমন রক্ষণশীল প্রার্থীকে সমর্থন করে, আবার অন্য এলাকায় ধনীদের উপর কর চায় এমন উদারপন্থী, যেমন স্টিভেন্সকে অর্থ দেয়, সে কি কোনো সুসংগত আমেরিকান রাজনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিচ্ছে? নিশ্চয়ই না।
যদি এই পরস্পরবিরোধী সমর্থনের একমাত্র নীতি হয় ইসরায়েলের প্রতি অটল সমর্থন, তাহলে তহবিল কমিটিটি কোনো অভ্যন্তরীণ আদর্শ বা ভোটার গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত নয়, বরং একটি বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত।
এখন, একজন ডেমোক্র্যাট স্টিভেন্সকে জেতাতে লক্ষ টাকা খরচ করার পর, অ্যাইপ্যাক নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের পেছনে লক্ষ টাকা ঢালবে—মিশিগানবাসী বা আমেরিকানদের জন্য নয়, বরং ইসরায়েলের জন্য।
এটাই অ্যাইপ্যাক-এর সারমর্ম: প্রার্থী তেল আবিবের স্বার্থ রক্ষা করলেই দলীয় পার্থক্য অপ্রাসঙ্গিক।
ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠান তাদের অবশিষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে শক্তিশালী বিদেশি লবি অ্যাইপ্যাক-এর তোষামোদের মাধ্যমে নষ্ট করেছে, ডেমোক্র্যাটিক ভিত্তি এবং নেতৃত্বের মধ্যে ফাটল আরও চওড়া করেছে।
চাক শুমার এবং গ্রেচেন হুইটমারের মতো ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের অ্যাইপ্যাক-এর তহবিল এবং সমর্থন ডেমোক্র্যাটিক প্রাথমিক নির্বাচনে কোনো গুরুত্ব বহন করেনি।
জিজ্ঞাস করুন অ্যাড্রিয়ানো এসপেইলাটকে। জিজ্ঞাস করুন ড্যান গোল্ডম্যানকে। জিজ্ঞাস করুন ডায়ানা ডিগেটকে, ১৫-মেয়াদী কলোরাডোর কংগ্রেস সদস্য যিনি বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদ থেকে ডেনভারের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।
এই তিনজনই একই ছয় সপ্তাহে তাদের আসন হারিয়েছেন, এবং অ্যাইপ্যাক-এর সমর্থন সত্ত্বেও একই কারণে হেরেছেন: তারা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, অথবা “গণহত্যা” শব্দটি বলতে চাননি, অথচ তাদের নিজস্ব ভোটাররা তাদের ছাড়াই এগিয়ে গেছে।
মিশিগানে, ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন, এবং রাজ্য সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমরোকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে গিয়ে এল-সাইয়েদ বিরোধী “ডেমোক্র্যাটিক” ভোট একত্রিত করার চাপ—সবকিছুই ব্যর্থ হয়েছে।
এটি আরও প্রমাণ যে দলের ভিত্তি এবং নেতৃত্ব ইসরায়েল ইস্যুতে দুটি ভিন্ন জগতে বাস করছে।
অকালজাত শান্তি পরিকল্পনা: ইসরায়েল, হামাস এবং নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন
সাত দশক ধরে, ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ছিল ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির প্রধান শর্ত; নিরাপদ অবস্থান যা ইসরায়েল-প্রথম ইহুদি কোটিপতি এবং অ্যাইপ্যাক-এর টাকা প্রবাহিত রাখতো এবং প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দূরে রাখত।
সেই হিসাব এখন ভেঙে গেছে। গাজা যখন ক্ষুধায় জ্বলছে তখন চুপ থাকা এখন একজন ডেমোক্র্যাটের নির্বাচনে হারার দ্রুততম উপায়।
এসপেইলাটের অ্যাইপ্যাক-এর সমর্থন ছিল যখন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজা অবস্থান কর্মসূচির সাবেক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে নিউ ইয়র্কের ১৩তম এলাকায় তাকে হারিয়ে দেন।
গোল্ডম্যান, যিনি পুরো প্রচারণা জুড়ে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলতে অস্বীকার করেছিলেন, সহ-নিউ ইয়র্কার এবং ইহুদি প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারের কাছে হেরেছেন যিনি স্পষ্টভাবে গোল্ডম্যানের ইসরায়েল রেকর্ডের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন।
তারপর এলেন ডিগেট, একজন কংগ্রেসনাল প্রগতিশীল গোষ্ঠীর স্তম্ভ, ২৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক মেলাত কিরোসের কাছে পরাজিত হয়েছেন। শেষ মুহূর্তে এ্অ্যাইপ্যাক-সংযুক্ত বাইরের খরচ তাকে বাঁচাতে চাইলেও পারেনি।
কিরোসের ভোটারদের কাছে শেষ বার্তা ছিল স্পষ্ট: “অ্যইপ্যাক-এর মতো কর্পোরেট রাজনৈতিক তহবিল কমিটি”-কে প্রত্যাখ্যান করুন এবং ফিলিস্তিনে যা তিনি গণহত্যা বলেছেন তা শেষ করার জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করুন। ভোটাররা প্রায় ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে একমত হয়েছেন।
হ্যালি স্টিভেন্স যিনি একবার গর্ব করে বলেছিলেন ইসরায়েল তার স্বপ্নে আসে—সেই স্বপ্ন প্রাথমিক নির্বাচনে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়—এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ব্যবধান কমাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনায় তার ভাষা তীক্ষ্ণ করার চেষ্টা করেছিলেন।
এমনকি রাহম ইমানুয়েল যিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন, একজন মানুষ যিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডেমোক্র্যাটিক রক্ষক হিসেবে তার ক্যারিয়ার গড়েছেন এবং প্রকাশ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন, গত মাসে তেল আবিবে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন নেতানিয়াহুর সরকার দেশকে অচলাবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার নিঃশর্ত সমর্থন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মেইন রাজ্য সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। ইসরায়েল-বিরোধী সিনেট প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারের প্রচারণা ভেঙে পড়ার পর, অর্ধ ডজন ডেমোক্র্যাট তাকে প্রতিস্থাপন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রত্যেককেই প্রমাণ করতে হয়েছে যে তারা গাজা যুদ্ধের বিরোধিতা এগিয়ে নিয়ে যাবে, পিছিয়ে যাবে না।
বর্তমান মনোনীত ট্রয় জ্যাকসন প্রতিষ্ঠানকে খুশি করতে তার উদ্বোধনী বক্তৃতা থেকে ইসরায়েল এবং গাজা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, পরের দিনই, দৃশ্যমান চাপের মুখে, তিনি যুদ্ধকে “অবর্ণনীয়” বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি কখনও ইসরায়েলকে করদাতাদের অর্থায়নে সামরিক সহায়তার পক্ষে ভোট দেবেন না।
আশাবাদী নিরভ শাহ অ্যাইপ্যাক-এর টাকা নেননি বলে প্রকাশ্যে অস্বীকার করতে হয়েছে এবং তাকে প্ল্যাটনারের তৈরি জোট ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক বা প্রতিরক্ষামূলক—ইসরায়েলের সকল সহায়তার বিরোধিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হয়েছে।
এমনকি শেন্না বেলোসকেও সাংবাদিক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা গাজা নিয়ে তার অবস্থান কী তা বলতে চাপ দিয়েছে। তাদের কেউই আর পুরোনো ঐকমত্যের মতো দেখাতে পারে না।
পিছিয়ে থাকা রিপাবলিকানরা দেখছে এবং সুযোগ নিচ্ছে, এই জয়গুলোকে নভেম্বরে জেতার জন্য “অতিরিক্ত বামপন্থী” হিসেবে উপস্থাপন করছে।
আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন বুঝতে দলটি ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের চেয়েও আরও পিছিয়ে আছে। ভোটাধিকার থেকে নারীর অধিকার, সমকামী-রূপান্তরকামী অধিকার, এসব বিষয়ে রিপাবলিকান দল সবসময়ই আমেরিকার পরিবর্তনের বাস্তবতা বুঝতে দেরি করেছে। আর পরবর্তী মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলো তা প্রমাণ করতে চলেছে।
আজ আমরা যা পর্যবেক্ষণ করছি তা কেবল জাতীয় আমেরিকান রাজনীতিতে একটি ছোট পরিবর্তন নয়। এটি দলীয় রাজনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন।
একসময় ইসরায়েলের কাছে নতজানু না হওয়া—টুপি পরে ছবি না তোলা এবং অটোমান সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের অধীনে নির্মিত একটি দেয়ালের ফাঁকে নোট না গোঁজা—এসব ছিল রাজনৈতিক ঝুঁকি।
এখন নীরব থাকা, টালবাহানা করা, বা পুরনো লাইনে আঁকড়ে থাকাই আপনাকে বহিষ্কার করবে। আর তৃণমূল আন্দোলনগুলোই বহিষ্কারের কাজ করছে, বাইরের রাজনৈতিক তহবিল কমিটি বা চাপ গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করছে।
এটি ঘটেছে কারণ টেলিভিশনে দেখানো দুই বছরের দুর্ভিক্ষ, বোমা মারা হাসপাতাল, হত্যা করা শিশু এবং জাতিসংঘ কমিশনের ইসরায়েলের আচরণকে গণহত্যা বলার কারণে আমেরিকান ভোটাররা ইসরায়েলকে কীভাবে দেখে এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী নেতাদের কাছে তারা এখন কী আশা করে তা বদলে গেছে।
যে রাজনীতিবিদরা এই পরিবর্তনটি আগে বুঝতে পেরেছেন, মামদানি, ল্যান্ডার, আভিলা শেভালিয়ে, কিরোস—তারা জিতেছেন।
যারা পারেনি তারা এখন সাবেক কংগ্রেস সদস্য।
প্রতিটি ডেমোক্র্যাটের জন্য শিক্ষা যারা এখনও নিজেদের, অ্যাইপ্যাক এবং ইসরায়েলি বর্ণবাদের মধ্যে কতটা দূরত্ব রাখবেন, তা ভাবছেন: ভোটাররা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
বাকি একমাত্র প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠান কি নভেম্বরে উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জিততে “গণহত্যা-বিরোধী” আমেরিকান ভোটারদের সাথে সময়মতো তাল মেলাবে। -জামাল কানজ, একজন লেখক। তিনি Children of Catastrophe: Journey from a Palestinian Refugee Camp to Americaসহ একাধিক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আরব বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন।
[এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং দা সানরাইজ টুডে‘র সম্পাদকীয় নীতির সাথে তা প্রতিফলিত হয় না।]



