যৌন হয়রানি…

হাফসা ইসলাম: মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ট হবার পর আমরা আমাদের আশেপাশে যারা বা যে আমাদের সাথে সর্বক্ষণ থাকেন, তাদের কে আমরা চিনি তাদের কন্ঠ বা গায়ের গন্ধ থাকে, কারণ তারা সবসময় আমাদের সাথেই আছেন, যেমন: বাবা – মা, ভাই – বোন, দাদা – দাদি বা নানা – নানী, এ রকম অনেক আত্মীয়দের সাথে পরিচিত হয়ে থাকি। দিনদিন বড় হতে থাকি আর ক্রমাগত ভাবে আমাদের নেটওয়ার্ক ও বাড়তে থাকে, যেমন স্কুলের বন্ধুরা, আশেপাশের পাড়া প্রতিবেশিরা, বাবার বন্ধুরা, মায়ের বান্ধবীরা, আরো কতো লোক জনের সাথে বিভিন্ন ভাবে দেখা সাক্ষাৎ হয় যারা কোন এক সময় আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড হয়ে যায়। বাবার বন্ধুদের সবসময় চাচা বা কাকা অথবা আংকেল বলে থাকি, আর মায়ের বান্ধবীদের খালা, মাসি বা আন্টি বলে থাকি, আংকেলদের কে চাচা বলা হয় এই কারনে যে তারা বাবার ভাই বা বাবার ভাইয়ের সমতুল্য, আর মায়ের বান্ধবীদের খালা বা আন্টি বলা হয় এই কারনে যে তাদের কে মায়ের বোন এর সমতুল্য মনে কর হয়, ফলে তাদের কে আমরা ওই রকম সন্মান দিয়ে থাকি।

আমরা আমাদের পাড়া প্রতিবেশীদেরকেও সন্মান করে আংকেল বা আন্টি বলে থাকি, যেহেতু উনারা আমাদের চেয়ে বড়, আর বড়দের সন্মান করা আমাদের ছোটবেলা থেকে শিখানো হয়, তাই সন্মান করি। কিছুদিন পূর্বে আমি একটা অনলাইন এ বাংলা ভিডিও দেখেছিলাম যৌন হয়রানির উপরে, এই ভিডিওটা শিক্ষিত এবং আপনাকে আমাদেরকে সতর্ক করার জন্য যেটা আশেপাশে কি হচ্ছে তা খেয়াল রাখার জন্য।
শুধু যে বাইরে মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হয় তা নয়, ঘরে পাড়া প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে ও শিশু বা কিশোরী বয়সে ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন অনেকেই।
বেশির ভাগ পরিবারে দেখা যায় আপন খালাতো ভাই বা ফুফাতো ভাই বা মামাতো ভাইদের দ্বারা শিশু বয়সেই নানান ভাবে নির্যাতিত হয় তাদের আপন কাজিন বোনেরা। এই সব ভাইদের কাছেও নিরাপদ নয় বোনেরা, ভাইয়েরা বোনের সন্মান রক্ষা করতে পারেনা, বরং নিজেই অপরাধী হয়ে যান।
যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। শিশু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী কিংবা চাকুরীজীবী কেউই হয়রানির বাইরে নন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা এরকম ঘটনার দায় চাপানো হয় মেয়েদের ওপরই। “মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?”
সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে, বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে। শিশুরা এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের পরিবারের আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে, বা পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকেই, শিক্ষার্থীরা নির্যাতিত হচ্ছে তার শিক্ষকদের কাছ থেকে।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে পোশাক পরলেও রেহাই মিলছে না, আসলেই কি তাই? বোরকাই কি তাহলে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়…..?
কিছুদিন আগের এক ঘটনা – ঢাকায় শাহবাগ মোড়ে ব্যস্ত সময়ে বাসে উঠার চেষ্টা করছিলেন এক বোরকায় আবৃত মহিলা। কয়েকবার চেষ্টা করেও বাসে উঠতে পারলেন না। তার বক্তব্য ছিলো – “একদিন আমি শাহবাগ থেকে কল্যাণপুর যাচ্ছিলাম। তখন রাত প্রায় নটা। বেশ ভিড় ছিল বাসে। আমি বাসে ওঠার সময় একটা লোক আমার গায়ে হাত দিল। আমি তো বোরকা পরি, পর্দা মেনে চলি, তারপরও এমন করলো। খুবই আপত্তিকর। শুধু আমার নয়, সব মেয়ের জন্যই এটা আপত্তিকর।”
রাস্তাঘাটে এরকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু কেউই এগুলো নিয়ে কথা বলেনা লোকলজ্জার ভয়ে। এই সব পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী…?
বাবা মা নাকি সন্তান নাকি সমাজ…? মেয়েদের এই নির্যাতনের দায়ভার কে নেবে…? মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার, প্রতিটি নারী কে জোরালো ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে তাহলেই হয়তো কেবল এর প্রতিকার সম্ভব।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...

Close
Close