এক দশকের মধ্যে চাকুরী ত্যাগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ

১ লাখ ৭০ হাজার স্টাফের এনএইচএস ত্যাগ

ফজলু মিয়া: গত বছর রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার স্টাফ ইংল্যান্ডের এনএইচএস থেকে চাকুরী ছেড়ে চলে যান। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান অভূতপূর্ব চাপ সামলাতে না পেরে তারা চাকুরী ত্যাগ করেন। এনএইচএস হাসপাতাসমূহ এবং কমিউনিটি হেলথ্ সার্ভিসগুলো থেকে চাকুরী ছেড়ে যাওয়া স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন ৪১ হাজারেরও বেশী নার্স। এই সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে চাকুরী ত্যাগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। সামগ্রিকভাবে স্টাফদের এই চাকুরী ত্যাগ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২২ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিলো অনেক বেশী।
২০১০ সাল থেকে এনএইচএস’এ কর্মরত অবস্থায় চাকুরী ত্যাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি প্রশিক্ষন ও অধিক সংখ্যক স্টাফ রাখার লক্ষ্যে একটি নতুন ওয়ার্কফোর্স পরিকল্পনা গ্রহন করেন। এনএইচএস প্রোভাইডারস্ এর চীফ এক্সিকিউটিভ স্যার জুলিয়ান হার্টলী বলেন, মহামারির সময় স্টাফরা চমৎকারভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু এরপরও ক্ষান্তি ছিলো না। চাকুরী ত্যাগকারীদের উপাত্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের এটা পরিবর্তন করা দরকার।
তিনি আরো বলেন, স্টাফদের কল্যান এবং পেশাগত উন্নয়নের দিকে আমাদের মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন, দেখা দরকার নিয়োগদাতারা আসলেই তাদের সম্মুখসারির টিমগুলোর ব্যাপারে মনোযোগী। হার্টলী বলেন যে, তিনি ওয়ার্কফোর্স প্ল্যানকে স্বাগত জানান, বিশেষভাবে ক্লিনিক্যাল স্টাফদের জন্য শিক্ষানবিশকাল সম্প্রসারন, অধিক সংখ্যক স্টাফকে প্রশিক্ষন প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সংগ্রহ ও এজেন্সী ওয়ার্কারদের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
২০২২ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫১২ জন স্টাফ এনএইচএস হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ্ সার্ভিস ও স্বাস্থ্য সংস্থা ত্যাগ করেন। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭৮। এই স্টাফদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী, ম্যানেজার, সপোর্ট ওয়ার্কার ও টেকনিক্যাল স্টাফ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সাল ছিলো এনএইচএস এ চাকুরী ত্যাগের সর্বোচ্চ সময়। এর কারন. মহামারির সময় তাদের অবসর গ্রহন হয়তো বিলম্বিত হয়েছিলো। এর পাশাপাশি কর্মজীবনে ভারসাম্যের কারনও এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button