ভিসা ও ফ্লাইট সঙ্কটে নাকাল বাংলাদেশের হজ যাত্রীরা

hajjবাংলাদেশে হজ যাত্রীদের ভিসা জটিলতার পাশাপাশি এখন ফ্লাইট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী কম থাকায় রোববারও একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সবমিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ১৯টি ফ্লাইট বাতিল হলো। হজের শেষ ফ্লাইট ২৬শে আগস্ট। কিন্তু মোট হজ যাত্রীর তিন ভাগের দুভাগই এখনো বাকি রয়ে গেছে।
একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ হজের যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন গত বছরের নভেম্বর মাসে।
দেশের বাইরে নিয়মিত ভ্রমণ করেন মি. আহমেদ।
কিন্তু তিনি বলছেন, এত জটিল প্রক্রিয়া অন্য কোনও ভ্রমণে কখনো দেখেননি।
মি. আহমেদ বলেন, এখন শেষ মুহূর্তে এসে ফ্লাইট নিয়ে আশংকা করছেন তিনি।
এবছর হজ যাত্রীর সংখ্যা এক লক্ষ ২৭ হাজারের মতো। যার মধ্যে মোটে এক তৃতীয়াংশ এখনো পর্যন্ত যেতে পেরেছেন।
অর্থাৎ ৮৬০০০ হজ যাত্রী এখনো যেতে পারেননি। রোববার পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজারের মতো হজ যাত্রীর এখনো ভিসাই বাকি। সেটি এখনো উদ্বেগের বিষয়।
কর্তৃপক্ষ অগাস্টের ১৭ তারিখের মধ্যে ভিসা সম্পন্ন করার সময় বেধে দিয়েছে। এর মধ্যে ভিসা সম্পন্ন হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাও করছে।
কিন্তু ২৬শে আগস্ট হজের শেষ ফ্লাইট। ইতিমধ্যেই ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট নিয়ে গোলযোগের আশংকার মধ্যেই এজেন্সিগুলো বলছে, বাংলাদেশে থেকে শুধু দুটো এয়ারলাইন্সের হজ যাত্রী নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন রয়েছে।
আর সেই দুটি হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারওয়েজ।
মাত্র দুটি বিমান কোম্পানি এত হজ যাত্রীর জন্য ফ্লাইটের সময়সূচী শেষমুহুর্তে দিতে পারবে কিনা সেনিয়ে আশংকা তৈরি হয়েছে।
হজ এজেন্সিগুলোর সমিতি হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলছেন, “সৌদি আরবের একটি নিয়ম হলো ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সৌদিতে হজের ফ্লাইট যেতে হবে। অর্থাৎ অরিজিন কান্ট্রি থেকে গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট। শুধুমাত্র বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সৌদি ফ্লাইট পরিচালনা করে। এটাই আমাদের বলা হয়।”
মি. হোসাইন বলছেন, শুধু দুটি এয়ারলাইন্সের হজ যাত্রী বহনের নিয়ম বদলানো এখন খুবই দরকার।
তিনি বলেন, “থার্ড ক্যারিয়ার অর্থাৎ যেমন মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক অন্য এয়ারলাইন্স। তারা হয়ত তাদের নিজেদের দেশে আগে যাবে তারপর সৌদি আরব। সেরকম বিমান কোম্পানির মাধ্যমে হজ যাত্রী বহনের অনুমোদন দেয়া উচিত। এতে করে ভাড়ায় প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং অনেক বেশি হজ যাত্রী বহন করা যাবে।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অবশ্য বলছেন, সৌদি সরকারের করা নিয়ম তারা এখনই বদলাতে পারছেন তা তবে এবার হজ যাত্রীদের যাতে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট সংকট না হয় সেজন্য সৌদি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে ২০টি ফ্লাইটের স্লট চাওয়া হয়েছে।
তিনি বিবিসিকে বলেন, “আমাদের উড়োজাহাজ রেডি আছে। নতুন একটা জাহাজ ইতিমধ্যেই এসেছে। আগামীকাল ও পরশুর মধ্যে আরো দুটো আসবে। কিন্তু ভিসা যদি না হয় আর যাত্রী যদি না হয় তাহলে তো ফ্লাইট পরিচালন করা যায়না।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩০০ হজ এজেন্ট রয়েছেন।
কিন্তু বেশিরভাগ প্লেনের টিকেট অল্প কিছু এজেন্টের হাতে চলে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টিকে প্রতিবছরই ফ্লাইট জটিলতার জন্য দায়ী করা হয়। -বিবিসি

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button