এক্সক্লুসিভবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

গুগলকে রেকর্ড ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা ইইউ’র

Googleমার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে রেকর্ড ৪৩৪ কোটি ইউরো বা ৫০৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ইউরোপিয়ান কমিশন বলেছে, ওয়েব সার্চ ব্যবসায় নিজের আধিপত্য সুদৃঢ় করতে গুগল অবৈধভাবে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) ব্যবহার করেছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেটকে ৯০ দিনের মধ্যে এই চর্চা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আরও জরিমানা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে ইইউ। গুগল আপিল করার কথা জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, শেষ অবদি জরিমানা গুনতে হলেও গুগলের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
মার্চের শেষ নাগাদ গুগলের নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১০৩০০ কোটি ডলার। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে, ইইউর কম্পিটিশন কমিশনার মার্গ্রেথ ভেস্টাজের বলেন, গ্রাহকদের সামনে বিকল্প থাকতে হবে। গুগলের ওই একতরফা নীতির কারণে মানুষের সামনে বিকল্প কমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ফলে বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমেছে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই রুলিং-এর ফলে মোবাইল ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যান্ড্রয়েডের পরিবর্তনকৃত সংস্করণ ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েডের কিছু ফিচার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুগল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
অপরদিকে গুগলের প্রধান নির্বাহী এক ব্লগ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘সৃজনশীলতা, বিকল্প পছন্দ করার সুযোগ ও দাম হ্রাস — এ সব কিছুই তীব্র প্রতিযোগিতার গতানুগতিক লক্ষণ। অ্যান্ড্রয়েডের কারণে সবই দৃশ্যমান হয়েছে।’ তিনি আরও লিখেন, ‘আজকের ইইউ’র সিদ্ধান্তে আমাদের ব্যবসায়িক মডেলকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অথচ এর কারণেই বিনামূল্যে অ্যান্ড্রয়েড ওএস সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড মানুষের বিকল্প বৃদ্ধি করেছে, কমায়নি।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও গুগলকে ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল ইইউ। সেই রুলিং-এর বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যবসা অ্যাডসেন্সের বিরুদ্ধে তৃতীয় আরেক তদন্ত পরিচালনা করছে ইইউ দল।
গুগলের বিরুদ্ধে মামলা কী নিয়ে?
ইইউ বলছে অন্তত তিনটি দিক থেকে গুগল অবৈধ পন্থা অনুসরণ করেছে। প্রথমত, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে গুগল নিজের সার্চ অ্যাপ ও ব্রাউজার ক্রোম ইন্সটল করে রাখতে বাধ্য করেছে। এতে রাজি না হলে গুগল নিজের প্লে অ্যাপস্টোর অ্যাকসেস দেয় না ওই প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া শুধুমাত্র গুগল সার্চ অ্যাপ প্রি-ইন্সটল করা থাকবে, এমন শর্তের বিনিময়ে বড় বড় ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরকে অর্থ দিয়েছে গুগল। এছাড়া কিছু ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি উন্মুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ওএস ব্যাপকভাবে মডিফাই করে ব্যবহার করতে চাইলে গুগল তাদেরকে হুমকি দিয়েছে যে ওই ফোনে তাদের নিজস্ব অ্যাপ প্রি-ইন্সটল করতে দেওয়া হবে না। ইইউর মতে, এই তিনটি বিষয়ই মানুষের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে।
ইইউ কম্পিটিশন কমিশনার স্বীকার করেছেন, ক্রোম ব্রাউজার ও গুগল সার্চ অ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপ ব্যবহার করতে গুগল বাধা দেয় না। তবে মাত্র ১ শতাংশ গ্রাহক নিজ থেকে অন্য সার্চ অ্যাপ ইন্সটল করেছেন। আর মাত্র ১০ শতাংশ পরে অন্য ব্রাউজার ইন্সটল করেন। তিনি বলেন, ‘যখন কেউ আগে থেকেই গুগলের অ্যাপ ব্যবহার করেন ও দেখতে পান যে এটি ভালোই চলছে, তখন খুব মানুষই অন্য সার্চ অ্যাপ ও ব্রাউজার ইন্সটল করতে কৌতূহলী হন।’
এর আগে রাশিয়ায়ও ক্রোম ব্রাউজারে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে বিপাকে পড়েছিল গুগল। পরে বাধ্য হয়ে গুগল এখন নিজের সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও ইয়ান্ডেক্স ও মেইল.আরইউ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ থেকে ইয়ান্ডেক্স বেশ লাভবান হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের আগে যেখানে ইয়ান্ডেক্স ব্যবহারকারীর হার ছিল ৩৪%, তা পরে ৪৬%-এ উন্নীত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close