শিরোনাম :

লন্ডন, আজ বৃহস্পতিবার | ১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৪ঠা জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী | ১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | সকাল ৮:৪২

Home » ধর্ম-দর্শন » পবিত্র হজ্জের চেতনাই মুসলিম জাতির শক্তির উৎস

পবিত্র হজ্জের চেতনাই মুসলিম জাতির শক্তির উৎস

Hajjমনসুর আহমদ: মুসলমান জাতির পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ লিখেছেন, ‘ইসলাম হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি নৈতিক ও সামাজিক জীবনব্যবস্থা। এটা একটা বিশ্বজনীন মতবাদ (World theory) এবং এটা আন্তর্জাতিক আদর্শ (Universal ideal)। এ আদর্শ এমন একটা সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যা এ জীবনব্যবস্থা, এ মতবাদ ও মতাদর্শ নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে আবির্ভূত হবে, বিশ্ববাসীর সামনে এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে এবং যে যে জাতির যে যে মানুষ এ আদর্শকে গ্রহণ করবে, তাদেরকে সে আপন সমাজের অন্তর্ভুক্ত করতে থাবে এবং শেষ পর্যন্ত সকল জাতির মধ্যে ভেদাভেদের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেবে।’ ইসলামের বিশ্বজনীনতা ও আন্তর্জাতিকতার চেতনাবোধ মুসলিম জাতির অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম উপাদান। একটি বিশ্বজনীন জীবনবিধান ও আন্তর্জাতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী চেতনা মুসলিম জাতির শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস। এই সংগ্রামী চেতনাবোধ জাগ্রত করার প্রয়োজনেই আল্লাহ মুসলমান জাতির বিত্তশালী ও সামর্থবানদের উপর হজ্জকে ফরজ করে দিয়েছেন।
হজ্জ মুসলমান জিন্দেগীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলমান জাতিকে সমষ্টিগতভাবে একটি উন্নত ও বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হবার ও থাকবার জন্য হাজার হাজার বছর ধরে প্রাণশক্তি যুগিয়ে আসছে। আরবী ভাষায় জিয়ারতের সংকল্প করাকেই বলে হজ্জ। যেহেতু খানায়ে কাবার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন কোণ থেকে নির্দিষ্ট এক কেবলার দিকে ছুটে আসে, সেহেতু এ অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে হজ্জ।
হজ্জের নিমিত্তে খোদার আশেক বান্দারা মক্কায় পৌঁছেই ছুটে আসে তাদের প্রধান আকর্ষণস্থল খানায়ে কাবার দিকে। প্রথমেই বন্ধুর প্রেমে মাস্তানা বান্দাগণ প্রিয় আস্তানাকে চুম্বন করে। তারা তাদের আকিদা বিশ্বাস, দ্বীন-ধর্মের কেন্দ্রস্থলের চারদিকে তাওয়াফ করে অর্জন করে দ্বীনের পথে নতুন জীবন।
এই সেই মহাশক্তির উৎস খানায়ে কাবা, যা ধ্বংস করতে এগিয়ে এসে আবহরাহা বাদশা জাতির বিরাট দলসহ সামান্য আবাবীলের চঞ্চুর কাছে হার মেনে ধ্বংস হলো। পাথরে নির্মিত এ মাত্র একটি সাধারণ ঘর নয়, এ ঘরের সাথে সম্পৃক্ত অনেক নবী রাসূলদের ইতিহাস, এ ঘরের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। এ মর্যাদা অনুধাবনের মধ্যে নিহিত রয়েছে মুসলমান জাতির প্রাণরসের উৎস। এ ঘরের পরিচয় প্রদান সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা:
‘এ কথা নিঃসন্দেহ যে, মক্কায় অবস্থিত ঘরখানাই মানুষের ইবাদতের ঘর হিসেবে সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়েছে। উহাকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করে দেয়া হয়েছিল এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়াত লাভের কেন্দ্রস্থল বানানো হয়েছিল।’ (আলে ইমরান ৯৬)
‘এবং স্মরণ কর যখন আমরা এই ঘরখানাকে লোকদের কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়েছিলাম।’ (বাকারা)
‘আমরা মানুষের জন্য কিরূপ বিপদশূন্য ও শান্তিপূর্ণ হেরেম তৈরি করেছি, তা কি তারা দেখতে পায় না? অথচ এর চারপাশের লোক লুণ্ঠিতও ছিনতাই হয়ে যেত।’ (আনকাবুত)
‘যখন আমি ইবরাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়ে বলেছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবেনা এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তওবাকারীদের জন্যে, দণ্ডায়মানদের জন্যে রুকু সেজদাকারীদের জন্যে এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের জন্য ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে। যাতে তারা তাদের কল্যাণস্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময়, অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’
খানায়ে কাবা এমন এক মহান কল্যাণময় ঘর যাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হলো মুসলিম জাতি। হযরত ইবরাহীম (আ.) কে মর্যাদা প্রদান করা হলো বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতা হিসেবে। এই আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত করার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেয়া হলো, ‘মানুষের মধ্যে হজ্জের জন্য ঘোষণা প্রদান কর, ‘ওয়া আজ্জেন ফিন্ নাসে বিল হাজ্জে’ বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি ছিল খানায়ে কাবা। হযরত ইবরাহীম (আ.) এর পর থেকে হজ্জের মাধ্যমে এখান থেকেই দুনিয়ার বিভিন্ন কোণে হোক তা কাছের বা দূরের সর্বত্র ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পৌঁছত।
হজ্জ নিছক একটি পূণ্যার্জনের ইবাদতই নয়, বরং এটি ইসলাম প্রচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ইসলামকে জগতে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নিমিত্তে বান্দাহর জন্য পবিত্র ও মর্যাদাবান ইবাদত। হজ্জের জন্য খানায়ে কাবাতে এলেই মুসলমানের মানসপটে ভেসে ওঠে খোদাদ্রোহী ক্ষমতাদর্পী নমরুদের বিরুদ্ধে হযরত ইবরাহীম (আ.) এর সংগ্রাম ও কোরবানীর ইতিহাস। একটি উন্নত আদর্শ জাতি গঠনে কেমন ত্যাগ ও কোরবানীর প্রয়োজন তা অনুভব করতে সক্ষম হয় জ্ঞানী বান্দারা।
হজ্জের একটি অনুষ্ঠান মিনায় গিয়ে স্তম্ভের উপর পাথর নিক্ষেপ। এ পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে হাজীগণ ইসলাম ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনা অর্জন করে। খানায়ে কাবা ধ্বংসের জন্য আবরাহা বাদশা তার সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত এসে পৌঁছেছিল। কিন্তু আল্লাহ তার চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন আবাবীল পাখি পাঠিয়ে। আবাবীল পাখির নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো আবহারা ও তার সেনাবাহিনী। সেই ইতিহাস স্মরণ করে আজও যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় পাথর নিক্ষেপের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তারা ঘোসণা দেয়, ‘প্রভু হে, তোমার দ্বীনকে ধ্বংস করার জন্য তোমার বাণীকে স্তব্ধ করার জন্য যেই চেষ্টা করবে, আমি তোমার বাণীকে উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার বিরুদ্ধে এমনি লড়াই করব।’ কিন্তু আজ পৃথিবীর মুসলমানদের অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় মুসলমান হাজীরা কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে যে সংকল্পের ঘোষণা দেয় তা একটি প্রাণহীন উচ্চারণ মাত্র।
বর্তমান কালে হজ্জ যেন এক প্রাণহীন অনুষ্ঠান মাত্র। রাসূল (সা.) ও তাঁর সাথীদের হজ্জ ছিল কাফেরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও দ্বীনকে বিজয়ী করার আন্দোলনের নাম। মুসলমানগণ কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মদীনায় হিযরত করার পর ছয়টি বছর কেটে গেল তাদের একটিবারও স্বদেশের মুখ দেখার সুযোগ হলো না। তারা বঞ্চিত থাকল তাদের বড় প্রিয় সম্মানের ঘর কাবা শরীফের ঘর থেকে। তাদের চিত্ত ব্যাকুল হয়ে উঠল খানায়ে কাবা জেয়ারত করার জন্য। হুজুর (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পেলেন খানায়ে কাবাতে গিয়ে ওমরাহ করার। কিন্তু এ সুযোগ গ্রহণ রাসূল (সা.)-এর জন্য নিরাপদ হলো না। কোরাইশরা তাঁর সাথে ভাল ব্যবহার করল না। অবশেষে মুসলমানদের পকষ থেকে পাঠানো হলো হযরত ওসমান (রা.)কে। কিন্তু কুরাইশরা হযরত ওসমানের শান্তিপ্রস্তাবের প্রতি সম্মান তো দেখাইল না বরং তাঁকে আটক করে ফেলল। ইত্যবসরে সংবাদ এলো হযরত ওসমান (রা.) কুরাইশদের হাতে শহীদ হয়েছেন। এ অবস্থায় রাসূল (সা.) সকলকে সম্বোধন করে বললেন, ওসমান হত্যার জন্য কুরাইশদের সমুচিত শাস্তি না দিয়ে আমরা কিছুতেই ক্ষান্ত হবো না। অতএব আমাদের প্রত্যেককে মরণপণ করতে হবে। সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূলের হাতে হাত রেখে এ মরণপণ করলেন, ‘শতুর দেশে আমরা একদল মুসলমান সত্যের জন্য আজ এমন করিয়াই আত্মদান করিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইহাকেই বলে কুরবানী, ইহাই তো হজ্জ। লাব্বায়েক এর ইহাই মর্মবাণী, প্রভু হে! আমি হাজির। ইহা শুধু উচ্চারণ করিলে হয় না, কার্যেও তাহাই দেখাইতে হইবে।’
একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে মুসলমানদের প্রথম জজ্জ সর্বকালের মুসলমানদের জন্য একটি আদর্শ হজ্জ। মক্কা বিজয়ের কালে পবিত্র হেরেম শরীফ ইসলামের শত্রুদের প্রধান ঘাঁটি ছিল। অতএব তথা হতে ইসলাম বিদ্রোহীদের নাম নিশানা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা একান্ত প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকে এক বিরাট বলিষ্ঠ ঘোষণা পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াত রূপে অবতীর্ণ হলো। হযরত আলী (রা.) ১০ই জিলহজ্জ মিনায় জামরা আকাবার নিকট জনম-লীর বিরাট সমাবেশে দাঁড়িয়ে দৃঢ়কণ্ঠে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত ঘোষণাকে মোনাফেক মোশরেকদের জন্য জানিয়ে দেয়া হলো। এভাবে আল্লাহর রাসূল হজ্জের সম্মেলনকে সত্য মিথ্যার সম্পর্কের ব্যাপারে স্থায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে উপহার দিয়ে গেলেন মুসলমান জাতিকে।
নবী জীবনের শেষ হজ্জ, বিদায়হজ্জে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতে ছিল সামাজিক, পারস্পরিক অর্থনৈতিক বিধিবিধান ও রাজনৈতিক বিষয়াদি। বিদায় হজ্জ উপলক্ষে বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বমানবতার প্রতি রাসূল (সা.) ৯ই জিলহজ্জ আরাফাতে এবং ১০ই জিলহজ্জ মিনার বিভিন্ন স্থানে যে দীর্ঘ ভাষণ প্রদান করেছিলেন তা ছিল বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম রক্ষাকবচ। রাসূল (সা.) এর অনুসৃত পথে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে হাজির হয়ে আধ্যাত্বি ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টিই হজ্জের উদ্দেশ্য।
আমরা যদি রসুলের জিন্দেগীর ফতহে মুবীনের হজ্জ, হযরত আবু বকরের নেতৃত্বে মুসলিম রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথম হজ্জ ও বিদায় হজ্জকে সামনে নিয়ে আমাদের বর্তমান কালের হজ্জকে বিশ্লেষণ করি তাহলে আমাদের হজ্জের ত্রুটিগুলি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
আজ যখন গোটা মুসলিম জাহানকে গ্রাস করার জন্য ইহুদী-খ্রিস্টান শক্তি মরিয়া হযে উঠছে, যখন তারা হাজার হাজার অসহায় নিষ্পাপ শিশু নারীদের রক্তধারায় অবগাহণ করে পাশবিক মত্ততায় মেতে ওঠেছে মুসলমানদেরকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, তখনও বিশ্বের সচেতন মুসলমানরা খানায়ে কাবা নীরবে তাওয়াফ করে কিভাবে চুপ করে রইছে? যে পূণ্যভূমিতে জন্ম নিয়ে খোদাদ্রোহী রাজশক্তির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন হযরত ইবরাহীম (আ.), যেখানে শুয়ে আছেন প্রচুর নবী-রসুল, সাহাবী ও ওলী-আল্লাহসহ হযরত হোসাইন (রা.), সেই পাকভূমিতে আজ বর্বর ইহুদী-খ্রিস্টান শক্তি মানবতাবিরোধী সব ধরনের পাশবিকতা ও হিংস্রতায় মেতে উঠেছে। ওসব নাপাক ইহুদী-খ্রিস্টানরা হেজাজের পাকভূমিতে আসন গেড়ে গোটা মুসলিমজাহানাকে পলানত করার চক্রান্ত চালাচ্ছে তখনও কেন মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রনায়ক ও বুদ্ধিজীবি সমাজ হযরত আলীর মতো ওদের সাথে সম্পর্ক ছেদের ঘোষনা দিয়ে আলাদা মুসলিম ঐক্য গড়ে তুলছে না, কেন মুসলমানরা ‘বায়াতুর রেদওয়ান’ এর মত কাফের শক্তিকে পরাভূত করার শপথ ঘোষণা করছেনা নিজেদেরকে কোরবানীর জন্য পেশ করে দিচ্ছে না? বিদায় হজ্জের খোৎবার ন্যায় বিশ্বমানবতার মুক্তির লক্ষ্যে কেন আজ হজ্জের খোৎবা মুসলমানদের অন্তরে জজরা পয়দা করতে পারছে না?
কাবাঘর আজও দাঁড়িয়ে আছে আবরাহা থেকে শুরু করে ইসলামের বিভিন্ন শত্রুদের চক্রান্তজাল ছিন্ন করে। যার নিজের শক্তি নেই সে কিভাবে অন্যকে দাঁড় করিয়ে রাখার শক্তি যোগাবে? কাবাঘরকে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা গোটা বিশ্বের মানুষের টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এরশাদ হচ্ছে “জায়ালাল্লাহুল কাবাতাল বাইতাল হারামা কিরামাল লিনলাস- আল্লাহ সম্মানিত কাবাঘরটিকে মানুষের টিকে থাকার অবলম্ব বানিয়েছেন। (মায়েদা ৯৭)
মুসলিম জাতির শক্তির উৎস বয়তুল্লাহ। এ এমন এক স্থান যা আল্লাহর বিভিন্ন নিদর্শন এবং পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও কোরবানীর গৌরময় স্মৃতি বিজড়িত। এ গর তওয়াক করার ফলে প্রতিটি মুসলিমের অন্তরে জাগ্রত হয় পূর্ব পূরুষদের স্মৃতি। তাদের আদর্শে জাতি হিসেবে আল্লাহর বান্দারা নিজেদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিজয়ী জাতি হিসেবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা লাভ করে।
আজ যখন গোটা মুসলিমবিশ্ব ইসলামের শত্রুদের হাতে বন্দী হতে চলেছে তখনও যদি বয়তুল্লাহ ও হেরেম শরীফ থেকে যায় প্রাচীন আকৃতিতে হয়ে পড়ে ইউরোপ আমেরিকার স্বপ্নপুরীতে তাহলে খানায়ে কাবা তওয়াফ করে লাব্বায়েক লাব্বায়েক বলার স্বার্থকতা কোথায়। একথা স্য যে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য হজ্জ ফরয করা হয়নি, তবে হজ্জকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্বের বিরাজমান সমস্যাবলী সমাধানের পথ ও পন্থা নির্ধারণ এবং ইসলামী উম্মাহর রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ ঘটানো সম্ভব।
খানায়ে কাবার তওয়াফ শুধু ইবাদতের সার নয়, বরং মুসলমানদের জন্য একটা শিক্ষা যে জীবনের সমস্ত বড় বিষয়েই যাতে মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তাতে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, সমস্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে সমষ্টিক ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করতে হবে।
যে মসজিদে হেরেমকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের এর প্রধান কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহার করেন, যেখানে দাঁড়িয়ে মালেক ইবনে মারওয়ান তার সরকারের ভবিষ্যতে নীতি ঘোষণা করেন, আব্বাসী খলিফা আবু জাফর মনসুর, দাউদ ইবনে আলী আল্লাহর দুশমনদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংঘবদ্ধ করেছেন, সেই খানায়ে কাবা আজও দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর কোণায় কোণায় ইসলামী আন্দোলনের আওয়াজ পৌঁছে দেবার জন্য। মুসলমানদেরকে টিকে থাকার জন্য জাতিসংঘের আশ্রয়ে নয়, বরং খানায়ে কাবাকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বের মুসলমানদেরকে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ভ্রাতৃসংঘে পরিণত হয়ে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছে এ শতাব্দীর হজ্জ।
“যে ইসলাম একদিন ঝড় তুফানের মত আবির্ভুত হয়েছিল এবং যার সামনে পৃথিবীর কোন শক্তি দাঁড়াতে পারতোনা, আজ তার বিশ্বজোড়া অস্তিত্ব ও শাসনক্ষমতা কিসে ছিনিয়ে নিল?” উত্তর একটি ইসলামী আন্দোলনের অবনতি ও অবক্ষয়। আজ তাই গোটা বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে হজ্জের এই পবিত্র অনুষ্ঠানকে শক্তভাবে গ্রহণ করতে হবে, ‘তবে একাজ সমাধা করাটা কোন ক্রীড়া-কৌতুকের ব্যাপার নয়। এটা সেই পর্বত ভাঙ্গার কাজের মতই দুরূহ যার কথা ভাবতে গেলেও ফরহাদের হাতুড়ি গলে পানি হয়ে যায়।”

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন