শিরোনাম :

লন্ডন, আজ বুধবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী | ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | রাত ১২:০৩

Home » এক্সক্লুসিভ » ভারতের শীর্ষ আলেম আল্লামা সালেম কাসেমির ইন্তেকাল

ভারতের শীর্ষ আলেম আল্লামা সালেম কাসেমির ইন্তেকাল

salim-qasimiবিশ্ব বিখ্যাত দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দের মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) ও শাইখুস হাদিস, হাকিমুল ইসলাম মাওলানা ক্বারী তৈয়ব সাহেব রহ. এর সাহেবজাদা, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি,  খতিবুল ইসলাম আল্লামা সালেম কাসেমি আজ শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টায় দেওবন্দস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন৷ ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জানা যায়, আল্লামা সালেম কাসেমি বেশ কিছুদিন যাবৎ গুরুতর অসুস্থ ছিলেন৷ অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিছুদিন ভর্তি থাকার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা দেয়৷ ফলে ডাক্তাররা তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন।
কিন্তু গতকাল শুক্রবার থেকে তার অবস্থা আবার উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে।
হুজ্জাতুল ইসলাম একাডেমির চেয়ারম্যান মাওলানা ডা. শাকিব কাসেমি জানান, তিনি আজ থেকে পাঁচ দিন পূর্বে হাসপাতাল থেকে রিলিজ হন৷ তখন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিলো। কিন্তু গতকাল শুক্রবার থেকে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই দম আটকে যাচ্ছিল তার৷ নিশ্বাস নিতে কস্ট হচ্ছিল খুব। এক পর্যায়ে এই শ্বাস কষ্টেই তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান৷
আল্লামা সালেম কাসেমীর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দের উস্তাদগণ, মূল দেওবন্দের উস্তাদগণসহ ভারতের বহু উলামায়ে কেরাম৷ শোক প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও আমজনতা৷ তার মৃত্যুকে ভেঙ্গে পড়েছে এলাকাবাসীসহ আশ-পাশের সকল মাদরাসার উস্তাদ-ছাত্ররা৷ অসংখ্য ভক্তবৃন্দ ও আলেম উলামা তার বাসভবনে ভীড়ও জমিয়েছেন শেষ বারের মতো তাকে এক নজর দেখতে৷
ইতিমধ্যে দেওবন্দের কাসেমী মাকবারায় তার দাফন কার্য সম্পাদেনর জন্য স্থানও নির্ধারিত করেছেন মাকবারায়ে কাসেমীর যিম্মাদারগণ৷ কবর খননের কাজও শুরু করেছেন উলামা-তলাবারা৷
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় আজ শনিবার রাত ১০টায় মরহুমের জানাযা আদায় করা হবে দারুল উলুম দেওবন্দের এহাতায়ে মুলসরীতে৷
আল্লামা সালিম কাসেমির বর্ণাঢ্য জীবন: দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল ইসলাম হজরত মাওলানা কাসেম নানুতবি রহ. এর দৌহিত্র, খবিতে ইসলাম মাওলানা কারি তৈয়্যব রহ. এর ছেলে হজরত আল্লাম সালেম কাসেমি। ইতিহাস বলছে এই মনীষীর জন্ম হয় ১৯২৬ সনের ৮ জানুয়ারি, সাহারান ১৯২৬ সালের ৮জানুয়ারি ভারতের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ এলাকায় তিনি জন্মলাভ করেন৷ প্রাথমিক শিক্ষা লাভ হয় ঐতিহ্যবাহি ইলমি ধারক কাসেমি পরিবারেই৷ তার পিতা হজরত মাওলানা কারি তৈয়্যব রহ.৷ তিনি ভারতবর্ষে খতিবুল ইসলাম নামে পরিচিত ছিলেন৷ তিনিই ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্রসোনাল ল বোর্ডে’র প্রতিষ্ঠাতা৷ দারুল উলুম দেওবন্দের সবচে দীর্ধস্থায়ী মুহতামিম ও (প্রিন্সিপাল) ছিলেন তিনি৷
আল্লামা সালেম কাসেমি প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন৷ এবং ধারাবাহিকভাবে পড়াশুনা শেষ করে কৃতিত্বের সাথে ১৯৪৮ সালে ফারাগাত হাসিল করেন৷ তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, শায়খুল আজম ওয়াল আরব হজরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি, শায়খুল আদব হজরত মাওলানা এজাজ আলী, শায়খুল হাদিস হজরত ইবরাহিম বলিয়াবি, হজরত মাওলানা ফখরুল হাসান রহ. প্রমূখ৷
আর তার সহপাঠীদের মধ্যে হজরত মাওলানা মানজুর নোমানি রহ., হজরত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানি রহ. হজরত মাওলানা সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রাবে হাসান নদবি হাফিযাহুল্লাহ প্রমুখ৷
পড়ালেখা শেষে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দেই শিক্ষক হিসবে খেদমতে নিযুক্ত হন৷ হেদায়া, মেশকাত, বুখারি শরিফসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠদান করেন৷ ১৯৮২সালে দেওবন্দে এখতেলাফ শুরু হলে তিনি তার বাবার সাথে ওয়াকফ দেওবন্দ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন৷ পরে এখানের প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পান তিনি৷
তিনি যেসব পদ পদবির অধিকারী ছিলেন তার কয়েকটি হলো, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সহ-সভাপতি, দারুল উলুম ওকফ দেওবন্দের প্রধান মুরুব্বী ও শুরা প্রধান, মাজাহিরে উলুম সাহারানপুরের শুরা সদস্য, আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি কোর্টের সদস্য, কুল হিন্দ রাবেতায়ে মাসাজিদের পৃষ্ঠপোষক, ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার পৃষ্ঠপোষক৷
অপরদিকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ইসলামের সেবায় বিশেষ অবদানের কারণে পুরস্কারও লাভ করেন৷ মিশরের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক উপমহাদেশের ‘বিশেষ আলেম’ পদবি, হুজ্জাতুল ইসলাম কাসেম নানুতবি রহ. অ্যাওয়ার্ড, হজরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহ.অ্যাওয়ার্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷
তিনি গত ক’ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় তার ছেলে মাওলানা সুফিয়ান কাসেমি ওয়াকফ দেওবন্দের ভারপ্রাপ্ত মুহাতামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন৷ শেষের দিকে তার চলাফেরাও একদম সীমিত হয়ে যায়৷

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন