শিরোনাম :

লন্ডন, আজ বুধবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী | ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | রাত ১২:০৩

Home » ইউকে » ‘গাজা মুক্ত কর’ স্লোগানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

‘গাজা মুক্ত কর’ স্লোগানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

UK Gaza2ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে লন্ডনের ডাওনিং স্ট্রিটে অবস্থিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি জনগণ। ‘ফিলিস্তিনীদের মুক্ত কর’, ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধ কর’ এই ধরনের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কার্যালয়ের চারপাশ।
ফিলিস্তিনীদের সর্মথনে ‘ফ্রেন্ডস অব আল-আকসা’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। শনিবার এক বিবৃতির মধ্য দিয়ে বেআইনি ও অমানবিক হামলার প্রতিবাদে নিন্দা জনিয়ে করবিন বলেন, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরায়েলের হামলায় প্রচুর মানুষ নিহত হয়েছে।
বিবৃতিতে করবিন আরো বলেন, গাজা উপত্যকার ভূমিহারা মানুষ এক দশকেরও দীর্ঘ সময় ধরে মৌলিক ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ জনগণই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। মৌলিক চাহিদা থেকে শুরু করে পানি ও বিদ্যুতের সংকটও বিদ্যমান রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা তাদের নৈতিক অধিকার বলেও জানান তিনি।
এসময় করবিনের এ বিবৃতিটি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পড়ে শোনান ফিলিস্তিনের সমর্থকরা।
উল্লেখ্য, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৩১ জন ফিলিস্তিনী নিহত এবং প্রায় তিনহাজারের কাছাকাছি আহতের কবর নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে দখলদার ইসরায়েলী বাহিনীর পোশাকধারী সৈন্যদের গুলীতে প্রতি তিন দিনে একজন ফিলিস্তিনী শিশু নিহত হচ্ছে।  ফিলিস্তিনী জাতিমুক্তির আন্দোলন ইন্তিফাদার দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকে গত ১৮ বছর ধরে চলছে এই হত্যাকা-। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে ইসরায়েলের চালানো এই হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতা। সংস্থাটির বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির জানিয়েছে, ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ফিলিস্তিনী শিশুকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলী বাহিনী।
৫ এপ্রিল ফিলিস্তিনী শিশু দিবস উপলক্ষে নতুন এই রিপোর্ট প্রকাশ করে ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনী জনতার প্রতিরোধ আন্দোলন দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হলে দখলদার ইসরায়েলী বাহিনী ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর সহিংসতা জোরালো করে।
ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের ফিলিস্তিনী শাখার পরিচালক আয়েদ কুটিশ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন,  ইসরায়েল প্রতিবছর প্রায় সাতশো ফিলিস্তিনী শিশুকে গ্রেফতার করে কারাবন্দী করে। তার অভিযোগ দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনী শিশুদের উপহাসমুলক আদালতে উপস্থাপন করে আর খারাপ আচরণ করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে থাকে।
সংস্থাটির সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরুর পর থেকে ১৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনী শিশুকে দখলদার কর্তৃপক্ষ। এসব শিশুদের ৩৫০ জন এখনও ইসরায়েলের কারাগারে আটক রয়েছে।

আমাদের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন