আইডিবির এপিআইএফের শেয়ার কিনছে এসআইবিএল

idbইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) পরিচালিত ওয়াকফ প্রোপার্টিজ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (এপিআইএফ) শেয়ার কিনবে বেসরকারি খাতের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও পেয়ে গেছে ব্যাংকটি। এটি কিনলে দেশের ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোকে বহুবিধ ও বহুমুখী কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন আরও তরান্বিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, এপিআইএফের ২০০ শেয়ার কিনবে এসআইবিএল। এসব শেয়ারের প্রতিটির মূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সে হিসাবে শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়াবে ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি অর্থে যার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। যা এপিআইএফের মোট শেয়ারের প্রায় দুই শতাংশ। এ শেয়ার কেনা হলে দেশের প্রথম কোনো ব্যাংক এপিআইএফের শেয়ার কিনবে।
এখন পর্যর্ন্ত এপিআইএফের শেয়ার রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের। এর মধ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে ৩৮ দশমিক ৬০ ভাগ। তাদের অর্থের পরিমাণ দুই কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ওআইসির ইসলামিক সোলিডারিটি ফান্ডের শেয়ার রয়েছে ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ রয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ ডলার। সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শেয়ার রয়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। তাদের অর্থের পরিমাণ ৭৫ লাখ ডলার। এরপর কুয়েতের কুয়েত ওয়াক্ফ পাবলিক ফাউন্ডেশন (শেয়ার ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ) ও কুয়েত ফিন্যান্স হাউস (৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ), মিসরের ফয়সাল ইসলামিক ব্যাংক (৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ), ইরানের ইরান ইনডোমেন্ট ফান্ড (৩ দশমিক ৮০ শতাংশ), বাহরাইনের আল বারাকাহ ইসলামিক ব্যাংক (১ দশমিক ৩১ শতাংশ) ও বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক (১ দশমিক ৩১ শতাংশ), সুদানের তাদামন ইসলামিক ব্যাংক (১ দশমিক ৩১ শতাংশ), জর্ডানের জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক (১ দশমিক ৩১ শতাংশ) এবং ওয়াকফ ও ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় (১ দশমিক ৩১ শতাংশ), প্যাসেস্টাইনের আরব ইসলামিক ব্যাংক (১ দশমিক ৩১ শতাংশ) এবং মালয়েশিয়ার আমানাহ রায়া বারহাদ (১ দশমিক ৩১ শতাংশ) এর শেয়ার রয়েছে। এপিআইএফ ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আইডিবির সদস্য দেশ এবং সদস্য বহির্ভূত দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য এপিআইএফ কাজ করে। ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এপিআইএফ যে অর্থ পায় তার ১০ শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি, ২০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জনকল্যাণ।
বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট পর্যর্ন্ত দেশে নিবন্ধনকৃত ওয়াক্ফ এস্টেটের সংখ্যা ২৩ হাজার। এর বাইরে অস্থায়ী অনিবন্ধনকৃত এস্টেটের সংখ্যা দেড় লাখ। এসব ওয়াকফ সম্পদের অনেকাংশই বিনা উন্নয়নে পড়ে আছে। এসব সম্পদের পূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতের কাজে লাগানো যেতে পারে। এভাবে বহুবিধ ও বহুমুখি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কাজে লাগানো যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, কোনো সম্পত্তি এর মালিক নিজের মালিকানা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সম্পত্তি ঘোষণা করে আল্লাহর উদ্দেশে জনকল্যাণ বা জনসেবার জন্য উৎসর্গ করলে সেই উৎসর্গ করার কাজটিকে ওয়াকফ বলা হয়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button