আজকের প্রচলিত বিজ্ঞানের উদ্ভাবক কি ইসলাম?

Bigganমুহাম্মদ আলী রেজা: গ্যালিলিও গ্যালিলি ও কোপার্নিকাসের মতো বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীরা চার্চের কোপানলে পড়লে এর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়ে যায়, আর বুঝি ধর্ম ও বিজ্ঞানের সহাবস্থান কোনো অবস্থাতে সম্ভব নয়। প্রচলিত বিশ্বাস আরো প্রবলভাবে পাকাপোক্ত হয়ে ওঠে। অন্ধ বিশ্বাস আর বস্তাভর্তি উপাখ্যান নিয়ে ধর্মের সৌধ, পক্ষান্তরে বিজ্ঞানের ভীত তৈরি হয় অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, গবেষণা, যুক্তি, প্রমাণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞান হচ্ছে বর্তমান জগতের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য নিবেদিত। সে ক্ষেত্রে ধর্ম শুধু তথাকথিত পরকাল নিয়ে আছে আর এই পরকালের কাল্পনিক স্বপ্ন দেখে থাকে। এসব যুক্তি ও ধারণা থেকে বলা চলে, এ দুয়ের সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী এবং সাংঘর্ষিক হওয়া স্বাভাবিক। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাসের পরও যদি বলা হয় বা দাবি করা হয়, বিজ্ঞান বলতে বর্তমান সময়ে আমরা যেটাকে বুঝি সেই বিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম, তাহলে ব্যাপারটি আজগুবি বা ভৌতিক গল্প বলে মনে হওয়ার নয় কি? এরপরও কিন্তু ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো, আজকের বিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম আর এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাঠাগার ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’-এ। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে আদিতে বিজ্ঞান বলতে শুধু পদার্থবিজ্ঞানকে বোঝানো হতো। বর্তমানেও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র তত্ত্ব এবং আবিষ্কৃত কলকব্জা, যন্ত্রপাতি ব্যতিরেকে বিজ্ঞানের অপরাপর শাখাগুলো বলতে গেলে হয় ভোঁতা, না হয় নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রোবট, ইন্টারনেট অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব কিছু প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে পদার্থবিজ্ঞানের ফসল বা অবদান। প্রাণ পদার্থবিজ্ঞান, ভূ-পদার্থবিজ্ঞান, মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি হরেকরকম নামকরণ থেকে সহজেই ধারণা নেয়া যায় মূল বিজ্ঞান পরিবারে পদার্থবিজ্ঞানের অবস্থান তার কেন্দ্রবিন্দুতে হবে। আমি চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয় জন্স হপকিন্সে প্রাণ পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছি, কিন্তু কোথাও শুনিনি, দেখিনি, পাইনি- পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম! বিশ্বের সচেতন এবং অভিজ্ঞ মহল অবগত যে রসায়ন, গণিত এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে ইসলামের অনুসারীরা অভূতপূর্ব যুগান্তকারী অবদান রেখেছে; কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক ইসলাম ধর্ম- এ রেকর্ডটি কোথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে তা দেখার জন্য লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে ঘুরে আসা যেতে পারে।
দুই শ’ বছরেরও বেশি পুরনো বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী এই পাঠাগারের সব বই ওয়াশিংটন-ডিসির তিনটি ভবনে সংরক্ষিত। ১৮৯৭ সালের জেফারসন ম্যাগনিফিসিয়েন্ট ভবনটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রথমতলায় স্থায়ীভাবে প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে The Giant Bible Ges The Giant Bible of Maing। লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্য থেকে ২০০টি ঐতিহাসিক পুস্তক ভবনটির দ্বিতীয়তলার ট্রেজারি গ্যালারিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এই তলার মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ। গম্বুজের মধ্যে একেকটি চিত্রের নিচে একেকটি দেশের নাম। ব্যতিক্রম চোখে পড়ল এত দেশের মধ্যে এক স্থানে শুধু একটি ধর্মের নাম। কোন দেশ কী উদ্ভাবন করেছে, সেটি গাইড আমাদের বুঝিয়ে দিলেন। দেশের নামের বদলে যে চিত্রের নিচে ‘ইসলাম’ লেখা ছিল, সেটি দেখিয়ে গাইড আমাদের বললেন, এটার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম ধর্ম। এ সময়ে বাল্টিমোরে আইসিএনএ (ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা)-র বার্ষিক সম্মেলন চলছিল। প্রফেসর রাও-এর লেখা, ‘মুহাম্মদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম’ বইটি হাতে পাই। লেখকের বর্ণনা মতে, রবার্ট ব্রিফল্ট তার বিখ্যাত গ্রন্থ দ্য মেকিং অব হিউম্যানিটিতে অনেক উদাহরণ পরিবেশন করে সমাপ্তি টেনেছেন এভাবেÑ ‘আমাদের বিজ্ঞান আরব মুসলমানদের কাছে ঋণী শুধু এতটুকুর জন্য নয় যে, বিজ্ঞানকে তারা কেবল চমকপ্রদ আবিষ্কার অথবা বৈপ্লবিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব উপহার দিয়েছে। বিজ্ঞান আরবির সংস্কৃতির কাছে আরো অনেক বেশি ঋণী। বিজ্ঞান তার নিজের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।’ এই একই লেখক কথাটির ব্যাখ্যায় বলেছেন, গ্রিকরা নিয়মাবদ্ধ ও সার্বজনীন করা এবং তত্ত্ব সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ বাতলে ছিল, কিন্তু ধৈর্য ধরে গবেষণার পদ্ধতি, সন্দেহাতীত জ্ঞানকে পুঞ্জীভূতকরণ, বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষুদ্র ব্যাপারেও বিশদ পরীক্ষণ পদ্ধতি, বিস্তারিত ও দীর্ঘ প্রসারিত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান এসবই গ্রিক মানসিক ধাত বা মেজাজে ছিল বহিরাগত। আমরা যেটাকে আজ বিজ্ঞান বলি, তার উত্থান ইউরোপে হয়েছিল নতুন পদ্ধতি গবেষণার ফলে এবং পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপন ও গণিত শাস্ত্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পদ্ধতিগুলো গ্রিকদের কাছে অজানা ছিল।…
ইউরোপকে আরবীয় মুসলমানেরা এসব মূলনীতি ও পদ্ধতিগুলো পরিচয় করিয়ে দেয়।’ রবার্ট ব্রিফল্ট যেসব উদাহরণ থেকে এই মন্তব্যে পৌঁছেছেন সে সবের মধ্যে রয়েছে : মুসলিম উদ্ভিদবিদ্যাবিদ ইবনে বতুতা বিশ্বের সব অঞ্চল থেকে উদ্ভিদ সংগ্রহ করে যে গ্রন্থ লিখেছেন সেটিকে Mayer আর The Geschder Botanika-তে অধ্যবসায়ের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। অপর দিকে আল বিরুনি ৪০ বছর ভ্রমণ করেছিলেন মানিকবিদ্যা সম্পর্কিত (মিনারোলজি) নমুনা সংগ্রহের জন্য এবং মুসলিম জ্যোতির্বেত্তারা এমন সব পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত চালিয়েছেন, যেসব পর্যবেক্ষণ ১২ বছরের ওপরে পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছিল। পক্ষান্তরে অ্যারিস্টটল পদার্থবিজ্ঞানের ওপর একটি বই লিখেছেন এমনকি একটি পরীক্ষা না চালিয়েই এবং প্রকৃতির ইতিহাসের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন একেবারেই নিশ্চিত না হয়ে, অসতর্কতার সাথে বর্ণনা দিয়েÑ প্রাণীদের চেয়ে মানুষের অর্ধেক দাঁত রয়েছে যে তথ্য অতি সহজেই অনুসন্ধান করা যেত। গ্যালেন, যিনি ক্লাসিক্যাল অ্যানাটমির নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছিলেন যে নিচের চোয়াল দু’টি হাড় দিয়ে গঠিত। এই প্রতিবেদনটি শতাব্দী ধরে গ্রহণ করে নেয়া হয়েছিল একেবারে কোনো আপত্তি ছাড়াই, যখন পর্যন্ত না আব্দুল লতিফ একটু কষ্ট স্বীকার করে মানুষের কঙ্কাল পরীক্ষা করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করলেন।
‘আমরা যেটাকে আজ বিজ্ঞান বলে জানি… ‘দ্য মেকিং অব হিউম্যানিটি’ গ্রন্থের লেখকের এ উক্তিটির সাথে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের রেকর্ড, ‘আদি বিজ্ঞান তথা পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক ইসলাম’ এ দু’টি বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্টত একটি যোগসূত্র লক্ষণীয়।
অন্যদিকে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ধর্মের মূলমন্ত্র এবং পুঁজি হচ্ছে অন্ধবিশ্বাস। তাই যদি হয় তাহলে এই অন্ধবিশ্বাস কিভাবে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করেছে আজকের মূল বিজ্ঞানকে উদ্ভাবন করতে? এ প্রশ্নের জবাব মেলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক বিক্রীত ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের বই ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’ পুস্তকে, যেখানে বর্ণিত হয়েছে, ‘কুরআন পাকে সব সময়ই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে আল্লাহ পাকের নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্য উদঘাটনের জন্য। আর এ কারণে ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি ও কারণকে এরিয়ে না গিয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষ কৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরে দেখা যায় প্রকৃতিক বিজ্ঞানে (ন্যাচারাল সায়েন্স) মুসলমানদের এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে তোলার, যা কখনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ বা সংঘর্ষ ঘটায়নি, খ্রিষ্টান ধর্মের ক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছে।
অতএব, স্পষ্টত ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলছে, ধর্ম বিজ্ঞানবিরোধী এবং এ দুয়ে সহাবস্থান সাংঘর্ষিক, অন্যান্য ধর্মের সাথে এ ধরনের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও ইসলামের ব্যাপারে এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত- সত্যিকার বিজ্ঞান বলতে আজ আমরা যেটাকে বলে থাকি এবং বুঝে থাকি, সেই আদি বিজ্ঞানের উদ্ভাবক ইসলামের অনুসারীরা। মুহাম্মাদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম গ্রন্থে প্রফেসর রাও লিখেছেন, ‘কুরআন পাকে যতগুলো আয়াত মৌলিক ইবাদত সম্পর্কিত তার চেয়ে অনেক বেশি হবে সেই সম্পর্কিত আয়াত যেখানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে প্রকৃতি/সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা, পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের। আরবীয় মুসলমানেরা এই প্রেরণায় প্রকৃতির রহস্য নিয়ে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ আরম্ভ করে দেয় যেটা বর্তমান সময়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও গবেষণার মূলনীতির ভিত্তি নির্মাণ করে, যা অজ্ঞাত ছিল গ্রিকদের কাছে।’
প্রচলিত আর একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস হচ্ছে, ধর্ম পালন করে শুধু পরকালীন জীবনের সুখ, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য। ইসলামে দুনিয়ার জীবনকে বাদ দিয়ে নয়, বরং উভয় জীবনের কল্যাণের জন্য কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ দুই জগতের কল্যাণ কামনা করে প্রার্থনা করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। এক সময় হজরত আলী রা:কে এক কুরাইশ নেতা বলেন, ‘পরকাল বলে কিছুই নেই। মৃত্যুর পর আর কিছু পাবে না। এখনই সব ভোগ করে নাও।’ জবাবে তিনি বললেন, ‘আমার স্বাস্থ্য তোমার চেয়ে ভালো তা ছাড়া এই পৃথিবীতেও আমি তোমার চেয়ে সুখী। মৃত্যুর পর পরকাল যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে তোমার যে অবস্থা আমারও একই। কিন্তু যদি পরকাল সত্যি সত্যি থাকে তবে আমি পার পেয়ে যাবো, তখন তোমার কী উপায় হবে ভেবেছ কী?’
মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালি রহ: লিখেছেন- ‘কোনো মুসলমান যদি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা শেষে মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে, সে ধর্মীয় শিক্ষারই সওয়াব লাভ করবে।’ ‘পৃথিবীর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও’ এ ধরনের আয়াতের প্রেরণায় মুসলামানেরা তাদের ইবাদতখানা পবিত্র মসজিদকেও বিজ্ঞান চর্চা ও অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করেছে।
বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ৮৫৯ সালে একটি মসজিদের অংশ হিসেবে। মরক্কোর এই কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুসারেও মরক্কোর ফেজ নগরীর কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতেমা নামে এক মহীয়সী নারী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সব অর্থ ব্যয় করেন তার সমাজের লেখকগণের জন্য একটি মসজিদ তৈরির পেছনে। এই মসজিদ হয়ে ওঠে ধর্মীয় নির্দেশনা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোচনার স্থান। মসজিদটি পুরোপুরি নির্মাণে লেগে যায় ২৭৮ বছর। ইতালির ব্লোনায় (Blogna) যখন প্রথম ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তারও আগে কারওয়াইন হয়ে ওঠে এক বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। ফেজকে তখন বলা হতো; ‘বাগদাদ অব দ্য ওয়েস্ট’।
বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে স্বনামধন্য আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মূলত আদিতে ছিল একটি মসজিদ। একটি মসজিদ হিসেবে এটির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু মসজিদ জ্ঞানচর্চার মূলকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে শেষে একটি বিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
‘ইসলামের এক গৌরবময় কীর্তি হচ্ছে কুরআন, হাদিস ও মুসলিম বিধান শাস্ত্র ফিকাহর অধ্যয়ন অনুশীলনের অনুরূপ অন্যসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও সমান আসন ও মর্যাদা দিয়েছে এবং মসজিদের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ পাশ্চাত্য চিন্তাবিদের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্টত উপলব্ধি করা যায় দুনিয়ার সুখ, কল্যাণের জন্য মুসলমানেরা কাজ করছে আর তার বিনিময়ে আখেরাতের কল্যাণ লাভে তারা সফল হবে। ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে মেকিং লাভের জন্য পুরস্কৃত হবে’- রাসূলুুল্লাহ সা:-এর কাছ থেকে এ কথা শোনার পর সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘যে কাজে আমরা সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি এবং মজা পাই তাতেও আমরা প্রতিদান পাবো?’ উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘তোমরা যদি এটা অনির্ধারিত পন্থায় নিতে তাহলে কি সে জন্য শাস্তি পেতে না?’ জবাবে উপস্থিত সাহাবিরা যখন বললেন- ‘অবশ্যই পেতাম’, শুনে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘তোমরা যে নির্ধারিত পন্থায় এটা উপভোগ করছো, সে জন্য তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে।’ ইসলামে এমনকি জ্ঞানীদের ঘুমকেও ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লেখক : সাবেক পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন...
Close
Back to top button